রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিন যাতে কোনও ধরনের ‘সেফ এক্সিট’ বা বিদেশে পালাতে না পারেন সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘আজকে আমরা একটা খবর দেখেছি যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছে তার শারীরিক অবস্থা দেখিয়ে। কিন্তু আমরা জানি খেলাটা কী? বিএনপি সরকার তার পরিকল্পনামাফিক এ রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করিয়েছে।’
এনসিপির জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে নেত্রকোনা শহরের পুরোনো কালেক্টরাল মাঠে আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, এই সরকার নির্বাচিত হওয়ার পরপরই উচিত ছিল এই ফ্যাসিস্টের দোসর দুর্নীতিবাজ রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের সুযোগ না দিয়ে তাকে অপসারণ করে গ্রেফতার করার। আমরা এখনও বলছি, শারীরিক অসুস্থতার নামে বা কোনও ধরনের অজুহাতে এই ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি চুপ্পু কোনও ধরনের সেফ এক্সিট বা বিদেশে যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে এবং সরকারকে অনতিবিলম্বে এই ফ্যাসিস্টের রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করতে হবে।’
পথসভায় বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘বিএনপির স্লোগান ছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা এখন তা ভুলে গিয়েছে। তারা ৩১ দফা, জুলাই সনদ, সংস্কার ও বিচার ভুলে গিয়েছে। তারা জনগণের কাছে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; সব ভুলে গিয়েছে। এখন তাদের স্লোগান আর সবার আগে বাংলাদেশ নেই। এখন তাদের স্লোগান—সবার আগে ক্ষমতা, সবার আগে লুটপাট, সবার আগে চাঁদাবাজি, সবার আগে সন্ত্রাস, সবার আগে দখলদারি।’
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেলার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া স্টেশন মাঠে ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে বছরের প্রায় ছয় মাস পানি এবং ছয় মাস শুকনা মৌসুম থাকে। দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই অনেক সময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে কৃষকেরা ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে হাওরে কয়েক মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেদের ৩০ কেজি করে ধান দেওয়া হচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘‘জেলে কার্ড’’। কয়েক কেজি ধান দিয়ে মানুষের জীবন-জীবিকা চলতে পারে না। সরকারের উচিত কার্ডনির্ভর সহায়তার পরিবর্তে প্রকৃত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।’
হাওরাঞ্চলকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ উল্লেখ করে এনসিপি নেতা বলেন, ‘নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল নিয়ে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে মৎস্যসম্পদ ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটানো গেলে এ অঞ্চলের অর্থনীতি যেমন সমৃদ্ধ হবে, তেমনি জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে।’ এ বিষয়গুলো সংসদে উত্থাপনেরও আশ্বাস দেন তিনি।









