‘বিএনপি ক্ষমতায় আইসা দুই বার তেলের দাম বাড়াইলো। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই তেল ও সারের সংকট সৃষ্টি হয়। আমরা কৃষকরা কই যামু। আমন আবাদ চলতাছে। ৩০ শতক জমিতে আবাদ করছি। সারসহ অন্যান্য খরচ এমনিতেই বেশি। এখন সেচ দেওয়া লাগলে খরচ আরও বাইড়া যাবে। কৃষক মানুষ জমিতো আর পতিত রাখতে পারমু না। আবাদ না করলে বাল বাচ্চারে কি খাওয়ামু।’
কথাগুলো বলেছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান। তিনি চলতি আমন মৌসুমে ৩০ শতক জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। কীটনাশক ও সার ছিটানোর পর এখন জমিতে আগাছা পরিষ্কার করছেন। তিনি সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আবাদ করতে খরচ আগে থেকেই বেশি ছিল। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে। বাজারে কৃষকের ধানের দাম তো আর বাড়েনি। কৃষক কীভাবে বাঁচবে, তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।
শুধু মিজানুর রহমান নন, একই ধরনের কথা বলছেন কৃষকেরা। একই এলাকার কৃষক আবু তালেব বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, কৃষি আবাদ করতে গিয়ে কৃষকেরা এখন বিপাকে পড়েছেন। কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে তাদের কিছু পণ্য কখনও কখনও বিক্রি করতে পারেন না। অথচ উৎপাদন খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। হঠাৎ তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই খরচ আরও বেড়ে যাবে। এতে করে কৃষকদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হবে।
কৃষক সুরুজ্জামান জানান, কৃষকদের বাঁচাতে হলে ডিজেলের দাম অবশ্যই কমাতে হবে। কেননা ওই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। এতে করে কৃষকেরা কৃষি আবাদে অনাগ্রহী হয়ে পড়বেন। এ দেশে কৃষকেরা যদি আবাদ না করেন, দেশের অবস্থা খুবই খারাপ হবে। এজন্য সরকারের প্রতি দাবি থাকবে, ডিজেলের দাম কমানো হোক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এনামুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কিছুটা হলেও বাড়বে। তবে চলতি আমন মৌসুমে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। আগামীতে প্রভাব পড়বে।’









