ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা শিক্ষক দম্পতিকে একই উপজেলার দুই প্রান্তের দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। প্রথমে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনকে বদলি করা হয়। পরে তার স্বামী ও আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকেও অন্য বিদ্যালয়ে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির আদেশ দেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকে কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন।
বদলির আদেশ অনুযায়ী, আফজাল হোসেনকে উপজেলার উত্তর প্রান্তের বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং তার স্ত্রী আছমা খাতুনকে দক্ষিণ প্রান্তের কাহালগাঁও দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয় দুটি উপজেলার দুই প্রান্তে অবস্থিত। ফলে এক বিদ্যালয় থেকে অন্যটির দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার।
গত ৫ অক্টোবর ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক দম্পতির ধস্তাধস্তি ও মারামারির একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ২০০৪ সালে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
প্রায় ১৪ বছর ধরে আফজাল হোসেন ও আছমা খাতুন আলাদা থাকছেন। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের প্রভাব তাদের কর্মস্থলেও পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে ঝগড়া হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিস্থিতির প্রভাবে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমতে থাকে। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান।
ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেনকে বৈদ্যবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর আগে সহকারী শিক্ষক আছমা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে তাকেও অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার দৃশ্য দেখা গেছে। শিক্ষক দম্পতির মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝাঁটি ছিলো। ঘটনার দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের এক সাবেক সহকর্মীর মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে।