গোপালগঞ্জে বারি-৬ জাতের মুগ ডালের বাম্পার ফলন

Send
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:১২, মে ২৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:১৪, মে ২৩, ২০১৬

গোপালগঞ্জে বেসিনে  বারি-৬ জাতের মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ জাতের মুগডাল আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৭ মণ  ফলন পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা।

ক্ষেত থেকে মসুর ওঠানোর পরই বারি-৬ জাতের মুগ ডালের  আবাদ করা যায়। মুগ কাটার পর আমন ধান আবাদ করা যায়। কৃষক একই জমিতে পরপর তিনটি ফসল ফলিয়ে লাভবান হতে পারেন। বারি মুগ-৬ আবাদ করে মাত্র ৬০-৬৫ দিনে ফলন পাওয়া যায়।

গোপালগঞ্জ বেসিন পাইলট প্রজেক্ট ,গাজীপুর ডাল গবেষণা উপকেন্দ্র, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জ বেসিন পাইলট প্রজেক্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ৭শ’ বিঘা জমিতে  বারি-৬ জাতের মুগ ডালের আবাদ করা হয়েছে।

সুকতাইল গ্রামের কৃষক গাউস আলী শেখ জানান, এ বছর তিনি ২ বিঘা জমিতে বারি-৬ জাতের মুগ ডাল আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় ৭ মণ ফলন পেয়েছেন। বাজারে প্রতি মণ মুগ ডাল ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতি বিঘায়  সাড়ে ১১ হাজার ৪০০ টাকার মুগ উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি বিঘায় মুগ ডাল আবাদে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদে লাভ হবে ৭ হাজার ৪ শ’ টাকা।  বারি মুগ-৬ আবাদ করে মাত্র ৬০ দিনে বাম্পার ফলন পেয়েছেন তিনি। আগে তারা এ জমিতে পাটের আবাদ করতেন। পাট কাটার পর আমন ধান আবদ করতে দেরি হয়ে যেত। তিন ফসল করা সম্ভব হতো না। কিন্তু লাভজনক মুগ চাষ করলে তিন ফসল আবাদ করা যায়।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনজিৎ বিশ্বাস বলেন, গোপালগঞ্জে বেসিনে মুগডালের চাষাবাদ  আগে হতো না। কারণ এখানকার কৃষক মুগের উন্নত জাত এবং আধুনিক চাষাবাদ জানতো না।

বারি মুগ ৬ জাতের অন্যতম উদ্ভাবক ড. মো. আশরাফ হোসেন গোপালগঞ্জ বেসিন পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে বীজসহ অন্যান্য উপকরণ গোপালগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। প্রকল্প ও কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ জেলার কৃষক এ বছর প্রথম বারি-৬ জাতের মুগ আবাদ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

বারি-৬ জাতের মুগের অন্যতম উদ্ভাবক ড. মো.আশরাফ হোসেন বলেন, বারি মুগ-৬ অল্প সময়ে বাম্পার ফলন দেয়। এ মুগ ডালে পোকার আক্রমণ হয় না। স্থানীয় জাতের তুলনায় বারি জাতে ৩ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। মুগ ডাল তোলার পর মুগের গাছ ও পাতা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে জমিতে জৈব সার তৈরি হয়। পরের ফসলের ভালো ফলন পাওয়া যায়। জমির উর্বর শক্তি সংরক্ষণ থাকে।

ডাল চাষে অন্য যেকোনও ফসলের তুলনায় সেচ ও সার কম দিতে হয়। ডাল ফসল শেকড়ের গুটির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। অন্যদিকে, ডাল খাদ্যের গুণগত মাণ বৃদ্ধি করে। ডাল ফসল নিরাপদ খাদ্য ও নিরাপদ পৃথিবীর অন্যতম নিয়ামক। কৃষক তার নিজের ও গবাদি পশুর স্বাস্থ্যরক্ষা, মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধির জন্য আগামীতে এই ডালের চাষ আরও বাড়াবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ড. আশরাফ।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সমীর গোস্বামী বলেন, গোপালগঞ্জে ডাল আবাদের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে।  কৃষক বারি মুগের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। এ জেলার কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়াতে বারি মুগ-৬ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও চলছে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম 

/এআর/টিএন/

লাইভ

টপ