
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা মামলায় পুলিশ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে। ২৮ জুন আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি স্থানান্তর করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
চার্জশিটভুক্ত ১০ জনের ছয়জন পলাতক। বাকি চারজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
আসামিরা হলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি, রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন, মো. সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান, আলমগীর হোসেন,রমজান আলী, হারেজ আলী, আলহাজ্ব খলিলুর রহমান,মো. রানা, শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান।
এ মামলায় এর আগে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার হওয়া মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. বাবুল ইসলাম ও আব্দুল মোমিনের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া আবেদনা করা হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে মোটরসাইকেল আরোহী কয়েকজন দুর্বৃত্ত শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের অধ্যক্ষ যোগেশ্বর রায়কে গলা কেটে হত্যা করে। গোপাল চন্দ্র রায় নামে এক সাধুকে গুলি করে এবং ককটেল ফাটিয়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে অপর পুজারি নির্মল চন্দ্র এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায় দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. আইয়ূব আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়ে। তিনি আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আইয়ূব আলী বলেন, মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করা না গেলেও পুরো ঘটনাটিকে খুব কম সময়ের মধ্যে ডিটেক্ট করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পঞ্চগড় জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান বলেন, এ মামলার বিচার শুরু করতে একটু সময় লাগবে। কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে।
একই ঘটনায় দেবীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মজিবর রহমান অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। এ দুটি মামলার একই তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আইয়ূব আলী উপরোক্ত ১০জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন।
/এসটি/








