কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নিহত দম্পতির ‘স্বাভাবিক’ মৃত্যু হয়নি। তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ময়নাতদন্তের সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র। এদিকে নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বাইটকামারী গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলেসহ অন্তত চারজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত।
গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামে নিজ ঘরের ভেতর থেকে গোলাম হোসেন ও তার স্ত্রী শিল্পী খাতুনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গোলাম হোসেনের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আর তার স্ত্রীর মরদেহ ছিল মেঝেতে।
নিহতদের মরদেহ প্রথম দেখতে পান প্রতিবেশি মালেকা। তিনি বলেন, ‘ঘরের দরজা চাপানো ছিল। হাত দিয়ে জোরে ঠেলা দিতেই দরজা খুলে যায়। কিন্তু পুলিশ কেন বলছে, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, তা বুঝতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘এলাকার কয়েক পোলাপাইন শিল্পীকে বিরক্ত করতো। তারাই স্বামী-স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আমি নিজে দরজা খুলছি, দরজা ভাঙতে হয়নি।’
নিহত গোলাম হোসেনের ভাই বাকেছ আলী দাবি করেন, তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত দম্পতির প্রতিবেশি ও এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেও শিল্পী খাতুনকে বিরক্ত করার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রতিবেশি ময়না খাতুন বলেন, ‘গোলাম হোসেন বাইরে কাজ করতো। এই সময় এলাকার কয়েককজন শিল্পীকে নানাভাবে বিরক্ত করতো। এই নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশও হয়েছে। এমনকি বখাটেদের নামে জিডিও আছে। এসব কারণে এই দম্পতিকে হত্যা করা হতে পারে।’
শিল্পীর মা মিলন মালার অভিযোগ, তার মেয়েকে বাইটকামারী গ্রামের কাদের চেয়ারম্যানের ছেলে কামরুল, একই গ্রামের শরীয়ত উল্যাহর ছেলে আব্দুল আউয়াল (৩০), শামছুল হক (২৭), তালু শেখের ছেলে সানোয়ার হোসেন (২৬) ও আবুল হোসেনের ছেলে মাজম আলী (২৮) দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। এই নিয়ে তারা থানায় জিডি করেন এবং সাবেক চেয়ারম্যান কাদেরের বাড়িতে একধিকবার সালিশও হয়। তারপরও প্রতিকার না পেয়ে শিল্পি খাতুন পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত বখাটেরাই তার মেয়ে আর মেয়ে জামাইকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রৌমারী থানার ওসি এবিএম সাজেদুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিবার চারজনকে আসামি করে মামলা করেছে। এখন তদন্ত চলছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে।
/এআরএল/
আরও পড়ুন:
রাজউকের টাকায় ৩৫ জনের বিদেশ সফরের আয়োজন







