যশোরের তিন উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে সার্কিট হাউজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় গিয়ে শেষ হয়। এরপর ওই কার্যালয় ঘেরাও করে কয়েক হাজার পানিবন্দি মানুষ।
পানিবন্দিরা জানান, প্রায় দুমাস ধরে তিন উপজেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরবাড়ি ছেড়ে গবাদি পশুর সঙ্গে রাস্তার পাশে ছাপড়ায় রাত্রিযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল-কলেজ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও পানি সঙ্কট। এ অবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন না করলে তারা আগামী ৫ মাসেও ঘরে ফিরতে পারবেন না। যে কারণে পানি নিষ্কাশনের দাবিতে আজ ঘেরাও কর্মসূচিতে এসেছেন।
অভয়নগরের সাবেক পৌর মেয়র ও ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা এনামুল হক বাবুল বলেন, পানি অপসারণে একটি মাত্র স্কেভেটর আনা হয়েছে যা দিয়ে কাজ হচ্ছে না। তাই অবিলম্বে আরও স্কেভেটর আনার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ার দিয়েছেন।
ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর নিজ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, ‘টিআরএমের বিকল্প নেই। পাশাপাশি কয়েকটি নদী খননের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বিষয়ে জরিপ চালাচ্ছে। আশাকরি, শীতের আগেই এ কাজ শুরু হবে।’
এছাড়া আরও একটি স্কেভেটর এনে পানি সরানোর কাজে গতি আনার আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
জামিনে মুক্তি পেলো সখিপুরের স্কুলছাত্র সাব্বির
/বিটি/







