নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে এক গোলটেবিল বৈঠকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ছুড়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এক পর্যায়ে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে আইভীর প্রশ্নের মুখে নিরুত্তর হয়ে পড়েন সাখাওয়াত হোসেন খান।
গোলটেবিল বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপস্থিত প্রার্থী, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা।
বুধবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ক্লাব মিলনায়তনে দৈনিক প্রথম আলো ওই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
সাখাওয়াত হোসেন খান গোলটেবিল বৈঠকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে এক হাজারের বেশি বৈধ অস্ত্র আছে সেগুলো জমা নেওয়া হচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত ভীতিকর পরিবেশ দূর হয়নি। কোনও বড় সন্ত্রসীকে গ্রেফতার করা হয়নি। তাছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বিগত দিনে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি বাড়িয়েছেন অনেক টাকা।’
পরে সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘বিগত নির্বাচনের তুলনায় এবার নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সুন্দর রয়েছে। এ সরকারের অধীনে আরও অনেক সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। আমি সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে না। তবে ইসি যদি মনে করে দেশের সর্বোচ্চ বাহিনী পর্যন্ত মোতায়ন করতে পারে। কারণ আমিও চাই আবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। আর ২২ তারিখে জনগণ যাকে বেছে নেবে সেই নির্বাচিত হবেন। জনগণের গণরায় আমরা সবাই মেনে নেবো। আর সাখাওয়াত হোসেন যে ট্যাক্সের কথা বলছেন আমি তাকে প্রশ্ন করতে চাই তার হোল্ডিং নাম্বার কত, আর তার কত টাকা বাড়ানো হয়েছে।’
হোল্ডিং সংক্রান্ত এই প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত কোনও উত্তর দিতে পারেননি। উল্লেখ্য সাখাওয়াত শহরের খানপুর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হোসেনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যতিত্ব রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি এবি সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, নারী মুক্তিযোদ্ধা ফরিদা আক্তার, ১৫ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী অসিত বরণ বিশ্বাস, ১৩, ১৪, ১৫ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী পপি রাণী সরকার প্রমুখ।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী বলেন, ‘মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডে জনগণ সুষ্ঠু নিবাচনের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। সন্ত্রাস ও গডফাদারদের থেকে আমরা এখনও বের হয়ে আসতে পারি নাই। এ মানুষগুলো এখনও আছে। প্রশাসনের কর্তাদের সর্তক থাকতে হবে যাতে করে নির্বাচনের সময় এরা ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল করতে না পারে।’
নাগরিক কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, ‘মেয়র প্রার্থীরা ঠিক থাকলেও কাউন্সিলরদের মধ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে কঠোর হতে হবে।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাসুম বিল্লাহও সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। এখনও কোনও বড় সন্ত্রসী গ্রেফতারর হয়নি।’
বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, ‘এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে ইউপি নির্বাচনে ২৫০ জনের প্রাণহানী হয়েছে। সেই দিক থেকে নারায়ণগঞ্জে বারুদের স্তুপের মধ্যে নির্বাচন করছি। যে কোনও সময় যে কোনও ঘটনা ঘটতে পারে। এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি।’
আরও পড়ুন-
নিখোঁজ ৭ জনকে নিয়ে সংশয় পুলিশের, মেলেনি খোঁজ
/এফএস/








