‘দাবি-দাওয়া’ সম্পর্কে জানা নেই শ্রমিকদের!

Send
নাদিম হোসেন, সাভার
প্রকাশিত : ১৬:৩৮, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৮, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬

কারখানা বন্ধের নোটিশমজুরি বাড়ানোর দাবিতে আশুলিয়ায় টানা ১০ দিন ধরে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। আন্দোলনের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে এই শিল্পাঞ্চল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা  হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মন্ত্রীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এরপরও শ্রমিকদের আন্দোলন থামাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর এতকিছুর পর আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের অনেকেই জানান, আন্দোলন সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তারা তেমন কিছুই জানেন না । শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে দিয়ে পেছন থেকে সরে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে।

বুধবার সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুরসহ আশপাশের  কিছু এলাকা ঘুরে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এই অভিযোগ পাওয়া যায়।

তবে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। শ্রমিকরাই কাউকে কিছু না জানিয়ে হুট করে আন্দোলনে নেমে পড়েছেন বলে অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের।পুলিশের টহল

জামগড়া এলাকার উইন্ডি গ্রুপের শ্রমিক রাজিয়া, সেড ফ্যাশনের হাবিবুর রহমান, স্টার্লিং ক্রিয়েশন কারখানার রিপনসহ একাধিক শ্রমিক বলেন, তারা কয়েকজন শ্রমিক নেতার নির্দেশে গত ১২ ডিসেম্বর তাদের কর্মস্থলে গিয়ে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে কারখানা ছুটি দিলে তারা বাড়ি চলে যান। এর পরের দিনও কারখানার গিয়ে হাজিরা দেওয়ার পরপরই শ্রমিকরা বাড়ি চলে আসেন। তিন দিনের মধ্যে শ্রমিকদের এই আন্দোলন আশপাশের আরও  কয়েকটি কারখানায় ছড়িয়ে দেন শ্রমিক নেতারা। উত্তাল হয়ে উঠতে শুরু করে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পুরোএলাকা।

ফিরোজ, হাসান মিয়া ও খাদিজাসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তারা কাজের উদ্দেশে কারখানায় প্রবেশ করেন। তবে কারখানায় প্রবেশের পর কিছু শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করলে কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তারাও প্রতিদিন কারখানায় প্রবেশের পর আবার বাড়ি ফিরে আসেন। আন্দোলন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা নেই উল্লেখ করে তারা জানান, বর্তমান বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। বেতন বাড়লে তাদের জন্যও ভালো হয়। তাই তারাও প্রতিদিন সবার মতো কারখানায় হাজিরা দিয়ে বরে হয়ে বাড়ি ফিরে যেতেন।আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ

তবে সুমন, কাউছারসহ কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তাদের কর্মীদের মাধ্যমে আন্দোলনে শ্রমিকদের উৎসাহিত করেন। নেতাদের নির্দেশেই তারা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানান। তবে কয়েকদিনের মধ্যে শ্রমিকদের আন্দোলনে শিল্পাঞ্চল উত্তাল হয়ে ওঠার পর ওই শ্রমিক নেতাদের আর দেখা পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার-আশুলিয়া কমিটির সভাপতি ইব্রাহিমসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাদের নির্দেশে তারা আন্দোলন শুরু করেন। তবে আন্দোলনের প্রথম কয়েকদিন ওই সংগঠনের কয়েকজন শ্রমিক নেতা তাদের পাশে থাকলেও এরপর থেকে তাদের আর দেখা পাওয়া যায়নি।পুলিশের টহল

এদিকে এ বিষয়ে জানতে কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ রেডিমেট গার্মেন্টস ওয়ার্কার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমি আক্তার বলেন, ‘শ্রমিকরা হঠাৎ করেই কাউকে কিছু না জানিয়ে আন্দোলন শুরু করে দিয়েছেন। নেতারা শ্রমিকদের আন্দোলনে নামিয়ে দিয়ে সরে পড়েছে এমন অভিযোগ ঠিক নয়।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, ‘শ্রমিক আন্দোলনে পেছন থেকে কারা আসলে উসকানি দিচ্ছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও এ ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।’ তবে আটক করা নেতাদের নাম প্রকাশ করেননি ওসি।

আরও পড়ুন- 

আশুলিয়ায় বিজিবি মোতায়েন, ১২০ শ্রমিক বরখাস্ত


বর্ষবরণে শ্লীলতাহানি: কোনও ভিকটিমের বক্তব্য পায়নি পিবিআই

/এফএস/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ