গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় জেলহাজতে থাকা সাবেক এমপি (অব) কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খাঁনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. শামছুজ্জোহা সরকার ওরফে জোহা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন।
রবিবার বিকেল ৩টার দিকে শামছুজ্জোহাকে গাইবান্ধা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক মইনুল হাসান ইউসুবি এই জবানবন্দি রেকর্ড করছেন।
এরআগে, রবিবার ভোর রাতে সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাকে পুলিশ কার্যালয়ে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শামছুজ্জোহাকে আটক করে লিটন হত্যার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শামছুজ্জোহা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এ কারণে তাকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য হাজির করা হয়েছে।
আটক শামছুজ্জোহা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের আবদুল জোব্বারের ছেলে। তার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা বাজারে একটি রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী (এরশাদ) মনোনীত সাবেক এমপি (অব) কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খাঁনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ছিলেন শামছুজ্জোহা।
লিটন হত্যা মামলার তদন্তকারী পুলিশের একটি সূত্র জানায়, লিটন হত্যার সমন্বয়কারী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার সরকার গত এক বছর ধরে চার কিলারকে নিয়ে শামছুজ্জোহার নলডাঙ্গা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বৈঠক করতেন। সেখান থেকেও কিলারদের লিটনকে হত্যার জন্য নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হতো।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে শাহবাজ (মাস্টারপাড়া) এলাকায় নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে ১ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : বিরোধের জেরেই খুন আন্ডারচর আ.লীগ সভাপতি, দাবি স্বজনদের








