সরকারিভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পান্তা-ইলিশ!

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:০২, এপ্রিল ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৩, এপ্রিল ১৫, ২০১৭

বগুড়ার শিবগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে সরকারিভাবে পান্তা-ইলিশের উৎসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় আয়োজিত অনুষ্ঠানেই পরিবেশন করা হয় পান্তা ও ইলিশ মাছ। তাতে উপজেলার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতারা।

জানা গেছে, বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজের বাসভবন চত্বরের বকুলতলায় মঙ্গল শোভাযাত্রা, গান, লোকজ নৃত্যসহ ‘পান্তা আস্বাদনে’র আয়োজন করা হয়। ওই চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয় সকাল ৮টায়। এরপর সাড়ে ১০টায় শুরু হয় ‘পান্তা আস্বাদন’ অনুষ্ঠান। প্রথমে মুড়ি, বাতাসা ও খাজা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় এই অনুষ্ঠানে। এরপর পান্তার সঙ্গে দেওয়া হয় রুই মাছ, গরুর মাংস, শুটকি ভর্তা, ডাল ভর্তা ও আলু ভর্তা। আর ‘পান্তা আস্বাদন’ অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় ইলিশ মাছ।

অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাড়াও উপজেলা প্রকৌশলী, সমবায় কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সরকারি দফতরের প্রায় সব কর্মকর্তাই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিনুল হক দুদু, সাধারণ সম্পাদক শামছুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুস ছাত্তার প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।

এবারের পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী ইলিশ মাছ খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করলেও সরকারি অনুষ্ঠানে পান্তা-ইলিশের আয়োজন কেন করা হয়েছে, জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দাবি করেন, অনুষ্ঠানে ইলিশ মাছ পরিবেশন করা হয়নি। পরে ওই অনুষ্ঠানে খাবারের তালিকায় ইলিশ মাছ থাকার প্রমাণ দিলে তিনি বলেন, ‘আমি ইলিশ মাছ কিনিনি।’ তা সত্ত্বেও কিভাবে ইলিশ মাছ পরিবেশন করা হলো, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবকিছু আমাকে কিনতে হয় না।’ এরপরই ফোন কেটে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে ইলিশ খাওয়া প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমদাদুল হক এমদাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানটি সরকারি হওয়ায় আমরা আওয়ামী লীগের নেতারা তাতে যোগ দিই। খাবার পরিবেশনের সময় আমরা জানতে পারি যে পান্তার সঙ্গে ইলিশ দেওয়া হবে। তখন তো আর কিছু করার ছিল না।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মো. শাহনেওয়াজের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

/জেবি/টিআর/

আরও পড়তে পারেন: মুজিবনগর দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

লাইভ

টপ