রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের পর উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে নিখোঁজ সেনা সদ্স্য আজিজুর রহমানের লাশ পাওয়ার খবরে তার বাড়িতে শুরু হয়েছে শোকের মাতন। নিহতের মা কর্পুলী বেগম তার দুই বছরের নাতনিকে দেখিয়ে বার বার বলছেন,‘ওতো এতিম হয়ে গেল।আমরা না থাকলে ওকে কে দেখবে?’
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কেন্দুয়া ইউনিয়নের শ্রীনাথদিতে এ খবর পৌঁছলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আজিজুরের স্বজনরা জানান, তিনি ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন। আজিজুর রহমান খুব সাহসী ছিলেন। এছাড়াও তিনি খুব সামাজিক ও মিশুক প্রকৃতির ছিলেন। ছুটিতে বাড়িতে এলেই বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আনন্দ-আড্ডায় মেতে থাকতেন।
স্থানীয়রা জানান, ‘নিহত আজিজুরের বাবার নাম খলিলুর রহমান বেপারি ও মায়ের নাম কর্পুলী বেগম। এই দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে আজিজুর সবার বড়। তাদের দ্বিতীয় ছেলে বিজিবি’তে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে প্রবাসী।
লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর থেকে আজিজুরের বাবা-মা ও স্ত্রীকে কেউ স্বান্তনা দিতে পারছেন না। তাদের ও স্বজনদের কান্নায় বাড়িতে আসা এলাকার মানুষেরও চোখ ভিজে উঠছে। স্বজনদের কান্না দেখে হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আজিজুরের দুই বছরের শিশু সন্তান তাহসিনা।
আজিজুরের বাবা-মা দুজনই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘একটাই চিন্তা আমাদের নাতনি তাহসিনার কি হবে? ওতো এতিম হয়ে গেল।’
স্থানীয় বাসিন্দা তুষার আহমেদ জানান, আজিজুরের নিখোঁজের পর প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধি কেউ এই পরিবারের খোঁজ নিতে আসেনি।
আজিজুরের চাচা জলিল বেপারি সাংবাদিকদের জানান, আজিজুর অনেক মিশুক, সাহসী ও পরোপকারী ছিল। তার পরিবারের লোকজন এখন লাশের অপেক্ষায় আছে। তাদের পারিবারিক কবরস্থানে আজিজুরকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: পাহাড় কেটে নয়, পরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণ করতে হবে: বীর বাহাদুর








