সাগর ও মোহনা থেকে চালান আসায় বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের মোকামে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ উঠেছে। ফলে ইলিশের দামও কমে এসেছে। এই ইলিশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বরিশালের সবচেয়ে বড় এই মাছের আড়তে আড়তদার, মৎস্য শ্রমিক ও ক্রেতাদের এ সময় ভিড়ও বেড়েছে।
ইজারাদার সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহ থেকে বরিশাল মোকামে গড়ে প্রতিদিন প্রায় চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মণ ইলিশ এসেছে। সরবরাহ বেশি থাকায় কমেছে দামও।
সাগর ও উপকূলে ধরা ইলিশ বরিশাল মোকামে পৌঁছাতে কয়েকদিন সময় লাগে। ইলিশের চালান পৌঁছানোর পরেই দাম কমতে থাকে।
বরিশাল মোকামে গিয়ে দেখা যায়, কর্কশিটে বরফ দিয়ে ইলিশ প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি আড়তের সামনে শত শত কর্কশিট প্যাকেটের স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
ভিড় বাড়ার ব্যাপারে ক্রেতারা জানান, মাস খানেক আগেও আকাশ ছোঁয়া দামের কারণে ইলিশের ধারের কাছে ভিড়তে পারতো না মধ্যবিত্ত-নিম্ন-মধ্যবিত্তরা। ইলিশের দাম কমে যাওয়ায় সেই ইলিশ এখন তাদের নাগালের মধ্যে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এভাবে মোকামে ইলিশের আমদানি বাড়ায় গত কয়েক মাসের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আড়ত থেকে কর্কশিটে (বিশেষ প্যাকেট) বরফ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে শত শত মণ ইলিশ পাঠানো হচ্ছে ঢাকা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
বরিশাল মৎস আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু জানান, অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে ইলিশের সরবরাহ বেশি থাকায় গত কয়েক মাসের মধ্যে এখন সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। সোয়া কেজি সাইজের ইলিশ প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে এক হাজার ২০০ টাকা। রফতানিযোগ্য আকারের (৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ইলিশ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে ৬৫০ টাকা। ভেলকা আকারের (৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম) ১৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে ৪০০ টাকা। গোটরা আকারের (২৫০ গ্রাম থেকে ৩৫০ গ্রাম) প্রতি মণ ১২ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে ৩০০ টাকা। এবং জাটকা প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হয়েছে সাত হাজার টাকায়।
তবে স্বাদ বেশি ও তাজা হওয়ার কারণে উপকূল ও সাগর মোহনার ইলিশের চেয়ে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ধরা পড়া ইলিশের দাম শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ বেশি।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল দাস দাবি করেন, সরকার জাটকা নিধন বন্ধ, মা-ইলিশের সুরক্ষা ও ডিম পাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারায় এ সফলতা এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সারাবছরই দেশে ও দেশের বাইরে বরিশাল অঞ্চলের ইলিশের চাহিদা থাকে। গত পহেলা বৈশাখে বরিশালের পোর্ট রোডের মোকামে সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজির বড় সাইজের ইলিশের মণের দাম উঠেছিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে চার হাজার টাকা। এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছিল পহেলা বৈশাখ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়েছিল দুই হাজার ৬২৫ টাকা।
তবে সেই দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে মঙ্গলবার থেকে বিক্রি হচ্ছে সোয়া কেজি থেকে দেড় কেজি সাইজের ইলিশের মণ ৮০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়ে দুই হাজার টাকা। তবে এ সাইজের ইলিশের সরবরাহ কম।
এক কেজি সাইজের ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে এক হাজার টাকা।
/এসএমএ/








