কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া তালতলা এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানায় মূল অভিযান শুরু হয়েছে। আজ শনিবার (০১ জুলাই) ঢাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) অন্তর্গত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ভেড়ামারা পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৫ টা ৪০ মিনিটে এ অভিযান শুরু হয়।
এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘টেপিড পাঞ্চ’।
অভিযানের শুরুতেই ৫টা ৪৫ মিনিটে জঙ্গি আস্তানার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিছিন্ন করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগে জঙ্গি আস্তানার পাঁচশ’ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এদিন বিকাল ৪টায় এ আদেশ জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ জারি থাকবে।
এদিন সকালে ভেড়ামারা শহরের বামনপাড়া তালতলা এলাকার একটি বাড়ি গোপন সূত্রের খবরে ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় অভিযান চালিয়ে তিন নারী জঙ্গিকে আটক করা হয়। কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিট (সিটিটিসি) ও কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক তিন জনের মধ্যে একজন নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব আলীর স্ত্রী তিথি। অপর দুজন হচ্ছে নব্য জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ডের স্ত্রী সুমাইয়া ও আরমান আলীর স্ত্রী টলি আরা। টলি নিজের স্বামীকে ডিশ ব্যবসায়ী ও নিজেকে দর্জি পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নেন। আটক দুজনের সঙ্গে দুটি শিশুও রয়েছে। এরা হচ্ছে নব্য জেএমবির আমির আইয়ুব বাচ্চু ও তিথির ৫ মাস বয়সী মেয়ে আফিয়া হাসান এবং আরমান আলী ও টলি আরার মেয়ে নোভা আক্তার (সাড়ে ৬ বছর)। বর্তমানে শিশু দুটি তাদের মায়েদের সঙ্গে ভেড়ামারা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এছাড়া ওই বাড়ি থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গান পাউডার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম মেহেদি হাসান জানিয়েছেন, রাত ১২টার দিকে সিটিটিসি’র একটি ইউনিটের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায় যে, ভেড়ামারা তালতলা মসজিদের পাশে একটি বাড়িতে জঙ্গিরা অবস্থান করছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে সিটিটির এডিসি আব্দুল মান্নানসহ কুষ্টিয়া ভেড়ামারা থানা পুলিশ, কুষ্টিয়া পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি যৌথ দল সেখানে অবস্থান নেয়। রাত ৩টার দিকে পুলিশ ও সিটিটিসি যৌথভাবে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় এক নারী সুইসাইডাল ভেস্ট পরা অবস্থায় পুলিশের ওপর হামলা চালানোর চেষ্ট করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বিস্ফোরক ভর্তি ভেস্ট বিস্ফোরণের আগেই তাকে ধরে ফেলে বলে দাবি করে। পরে তারা আরও দুই নারীকে আটক করতে সক্ষম হয় । এ সময় জঙ্গি তিথি ও সুমাইয়ার সঙ্গে তাদের শিশু সন্তানরাও ছিল। এছাড়াও ওই বাড়ি থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি পিস্তল, ম্যাগজিন ও গান পাউডার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিকের নাম নাসিমা খাতুন। প্রায় দুই মাস আগে জঙ্গিরা বাড়িটি ভাড়া নেয়।
/টিএন/







