জঙ্গিবাদ রোধে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রবিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ আহবান জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন মন্ত্রী।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ রোধে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে যে, বোমা মেরে বেহেশতে যাওয়া যায় না। এই কাজটি শিক্ষকদেরকেই করতে হবে। কারণ মা-বাবার কথার চেয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কথা বেশি শোনেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতে হবে।’
নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও বলেন, প্রতিবছর যত শিক্ষার্থী পাস করে বের হচ্ছেন, দেশে সেই অনুপাতে চাকরির পদ খালি নেই। তাই আপনারা কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিন। প্রথম দিকে মাত্র এক শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষা নিতেন। এখন দশ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি লাইনে পড়াশুনা করছেন।
প্রশ্নফাঁস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৮ বছর ধরে চেষ্টা করছি প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করতে। কিন্তু এক শ্রেণির শিক্ষকের কারণে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানো যাচ্ছে না। পরীক্ষার আগে রাত জেগে পাহারা দিয়েছি, খবর নিয়েছি। কিন্তু যখন ভোর রাতে ঘুমাতে যাব, তখনই খবর আসে যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এসময় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে এবং ফাঁসকারীদের ধরতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন।
সোহরাব হোছাইন বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রের যে কোনও প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় হ্যাঁ বলেন। শিক্ষা প্রসারে তিনি সর্বোচ্চ আন্তরিক। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী প্রয়োজন তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেন। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ৩৩ শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রপতি পদক দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী ১৭ শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী ১৬ জনকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক পদক।
এএইচ/








