আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের বিচার দাবি করেছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক।এ সময় তিনি মিয়ানমারের গণহত্যাকে মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লংঘন বলেও আখ্যায়িত করেন। রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিয়াজুল হক সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যান। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের মুখ থেকে মিয়ানমারে গণহত্যা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। এছাড়া কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নানা বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। এ সময় তার সঙ্গে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ছাড়াও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের দেখতে আসেন তুরুস্কের ফার্স্ট লেডির নেতৃত্বে সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধি দল। এরপর শনিবার বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মন্ত্রী পরিষদ সচিব মো.শফিউল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালায়ের সচিব শাহা কামালসহ প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পরিদর্শনে আসেন। সর্বশেষ আজ আসলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক।
গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্য বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ কারণে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্য মতে, এ পর্যন্ত ১২০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের কথা বলা হলেও স্থানীয় সূত্র মতে এই সংখ্যা দুই লাখের উপরে। এছাড়াও নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছে আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের ওপর। কিন্তু, এর কোনও তোয়াক্কা না করে রাখাইনে ফের সেনা মোতায়েন করলে বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করতে মিয়ানমার সেনাদের নয়া কৌশল








