ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বগুড়ার চাষিরা, আমন চারার দাম চড়া

বগুড়া প্রতিনিধি
১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩২আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৩৯

হাটে আমন ধানের চারা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বগুড়ায় কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। জমিতে নতুন করে আমন ধান আবাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে হাট-বাজারে চারার স্বল্পতা ও দাম বেশি হওয়ায় তারা চিন্তিত। সরকারিভাবে রোপা আমনের চারা বিতরণ করা হলেও অনেক কৃষকই তা পাননি। ফলে আমান আবাদ নিয়ে কিছুটা সংকটে পড়েছেন তারা।

দ্বিতীয় দফা বন্যায় বগুড়ার সোনাতলা,সারিয়াকান্দি,গাবতলী,ধুনট,শাজাহানপুর, শেরপুর,বগুড়া সদর,শিবগঞ্জের ফসলে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন করে আমন চাষের উদ্যোগ নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধুনটের গোসাইবাড়ি,শিবগঞ্জের মহাস্থান,শেরপুরের নয়মাইল ও নন্দীগ্রামের ওমরপুর হাটে আমনের চারা বিক্রেতার চেয়ে ক্রেতার সংখ্যাই বেশি। দাম অনেক বেশি। অনেক হাটে দাম বেশি দিতে চাইলেও কোনও হাটে চারা পাচ্ছেন না কৃষকরা।

মহাস্থান হাটে কথা হয় গাবতলী উপজেলার পীরগাছার কৃষক পুটু মিয়ার সঙ্গে। তিনি ভ্যানে চারা নিয়ে যাচ্ছিলেন। বলেন, ‘এবার ৫ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছিলাম। বন্যায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। হাটে রোপা আমনের চারা না পেয়ে বাধ্য হয়ে শাইল্যার (পোলাও চাল) ধানের চারা কিনেছি। গত বছর এক পণ চারা (৮০টির গোছা) ৪০০ টাকায় কিনেছিলাম। এবার কিনেছি ৮০০ টাকায়।’

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় বগুড়ার চাষিরা, আমন চারার দাম চড়া

শিবগঞ্জের রায়নগরের কৃষক ওবায়দুর রহমান জানান,তিনি এক বিঘা জমিতে রোপা আমন চাষের জন্য রঞ্জিত জাতের চারা কিনেছেন। প্রতি পণের দাম পড়েছে ৭০০ টাকা।

তিনি আরও বলেন, ‘আরও চারা কেনার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পাওয়া যায়নি।’

শেরপুরের নয়মাইল হাটে চারা বিক্রেতা ইউসুফ আলী প্রামানিক জানান,তিনি রঞ্জিত আগাম জাতের চারা নিয়ে এসেছেন। প্রতি পণ বিক্রি করছেন ৭০০ টাকায়। গত বছর তিনি এই ধানের চারা ৩০০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার জানান,এ সময় নাবিজাত ধান লাগানো যেতে পারে। ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধান লাগানো যাবে। বিনা-৭, ব্রি-৬২ ও গাইঞ্জা ধান লাগানো যেতে পারে।

চারা সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারিভাবে মাত্র ৫০০ কৃষককে এক বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগানোর জন্য চারা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৮টি উপজেলায় ৩৬ হাজার ৩৭৯ হেক্টর জমিতে থাকা রোপা-আমন,আউশ,শাক-সবজি,আমন বীজতলা ও কলাক্ষেতে পানি ঢুকে পড়ে। এতে কৃষকের অন্তত ৪৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে মন্ত্রণালয়ে ১০ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

 

 

/এসটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি