শীতের মৌসুম সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাঁচ গ্রাম। গ্রামগুলোর দেড় সহস্রাধিকের বেশি নারী কারিগর এখন শীতের সোয়েটার, মাফলার, কানটুপি ও মোজা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বালুয়াহাটা এলাকা। এই এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁতবস্ত্র তৈরি সোনাতলার বড় ও ছোট বালুয়া এলাকার কারিগরদের আদি পেশা। স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী সময় থেকেই তাঁতিরা হস্তচালিত তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, তোয়ালেসহ নানা পোশাক তৈরি করে আসছেন। ক্রেতাদের রুচি ও চাহিদা পরিবর্তন হওয়ায় ২০০০ সালের দিকে এখানকার তাঁতে শীতের সোয়েটার, মাফলার, কানটুপি ও মোজা তৈরি শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, কারিগরপাড়া হিসেবে পরিচিতি লাভ করা বালুয়াহাটায় ছোটবড় মিলিয়ে অন্তত ৫০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় এলাকার বিভিন্ন বয়সের দেড় হাজারের বেশি নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। দিন চুক্তি বেতনে কাজ করেন তারা।
বর্তমানে শুধু বালুয়াহাটা এলাকাই নয়; পাশের কামারপাড়া, সমজাতাইড়, রশিদপুর, নগরপাড়ায় গড়ে উঠেছে শীতের পোষাক তৈরির কারখানা।
বালুয়াহাটা এলাকার নারী শ্রমিক শিউলী খাতুন, শাপলা, রুমা বেগম, বিউটি খাতুন, পারুল আকতার, মুক্তি, রবেকা সুলতানা, আনোয়ারা বেগম, সুমনা, হাসিনা, জেসমিন আরা জানান, তারা মেশিন দিয়ে সোয়েটার, মাফলার, টুপি, কার্ডিগ্যান, ব্লাউজ তৈরি করে থাকেন। তাদের তৈরি শীত পোশাকের কদর রয়েছে সারাদেশে।
তারা আরও জানান, আগে পাশের গাইবান্ধা জেলায় কাজ করতে হতো তাদের। এখন নিজ এলাকায় অনেক কারখানা হওয়ায় তাদের আর গাইবান্ধায় যেতে হয় না। এখন নিজেদের এলাকার কারখানায় কাজ করে তারা সংসার খরচ ছাড়াও সন্তানদের লেখাপড়া এবং সমিতির থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন।
একই এলাকার উজ্জ্বল হোশিয়ারীর মালিক উজ্জ্বল জানান, শীত মৌসুমে মান ও বৈচিত্র্যের কারণে এখানকার তাঁতকলে তৈরি শীতের পোশাক সারা দেশের বাজারে ব্যাপক সমাদৃত। সেজন্য শীত আসার আগেই পোশাক তৈরির ধুম লাগে। তাই এখন মেশিনের খটাস খটাস শব্দে তাদের দিনরাত কাটছে।
তাঁতকলমালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের প্রচেষ্টায় সোনাতলা ও সারিয়াকান্দিতে কর্মসংস্থান ব্যাংক স্থাপন হয়েছে। সেই ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে তারা ঋণ নিয়ে ব্যবসা করছেন। কারখানাগুলো গড়ে উঠার সুবাদে পুরো এলাকা ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রসর হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা সিএনজি, অটোরিকশা ও মিনি ট্রাকে তাদের তৈরি শীতের পোশাক নিতে আসেন।








