শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একাধিক নারীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হাওলাদার (২৫) এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় তারা লিখিত কোনও অভিযোগ পায়নি। তবে বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আরিফকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তারা। এদিকে, উপজেলা ছাত্রলীগের নেতারা জানান, অভিযোগ তদন্ত করে প্রমাণ পাওয়ার পর আরিফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত আরিফ ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের মিন্টু হাওলাদারের ছেলে, নারায়ণপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় এমএ রেজা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ছাত্র।
ভেদরগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুন মাসে আরিফকে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সে এলাকায় নানান অপকর্ম করে আসছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোপনে এক গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য ভিডিও করে পরে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে আরিফ। তবে কেবল ওই গৃহবধূ নয়; একইভাবে ফাঁদে ফেলে গৃহবধূ ও কলেজছাত্রীসহ আরও অন্তত পাঁচ জনকে ধর্ষণ করেছে সে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনা জানাজানির পর এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন। এতে আরিফসহ অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ভিকটিম ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়। পরবর্তী সময়ে আরিফকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। আর এরপরই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় শামছুল হক রাঢ়ি ও ইব্রাহীম মাদবর বলেন, ‘এই জঘন্য কাজ করার পরও আরিফকে একটি প্রভাবশালী মহল বাঁচাতে চাইছে। আরিফের পক্ষে স্থানীয় ছাত্রলীগের ছেলেরা এসে হুমকি দিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার কঠিন শাস্তি চাই।’
শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিকালে আরিফের বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ওই বাসার আশপাশের লোকজন জানান, আরিফের মা কুয়েতে থাকেন। বাবা মিন্টু হাওলাদার পেশায় কৃষক। তিনি এলাকায় আছেন, তবে কাজে বাসার বাইরে রয়েছেন। আর আরিফ কয়েকদিন ধরেই এলাকায় নেই।
ঘটনার শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধর্ষণের ভিডিও দেখিয়ে আরিফ তাদের কাছ থেকে নানান সময় মোটা অংকের টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। সম্প্রতি ধর্ষণের ভিডিওগুলো গ্রামের মানুষের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে লোকলজ্জার ভয়ে তারা নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ঘটনার শিকার এক গৃহবধূ বলেন, ‘আমার সংসার ভাঙার উপক্রম হয়েছে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়ে এখন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।’
এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল সোহাগ বলেন, ‘আরিফ এ রকম চরিত্রহীন ছেলে, আমরা জানতাম না। ঘটনা জানার পর তদন্ত করে আরিফকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
ভেদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদি হাসান বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনও লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে আমরা ভিডিওগুলো পেয়েছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় আরিফকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’
এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ভেদরগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা বড় ধরনের সাইবার অপরাধ। যে কোনও উপায়ে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’








