আবুল খায়ের গ্রুপের মার্কেটিং অফিসার মাসুদুর রহমান মজুমদারকে হত্যা করার জন্য কুমিল্লা নগরীর নতুন চৌধুরী পাড়ায় সুমন ভিলা নামে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল ঘাতকরা। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
পিবিআই কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদ জানান, মাসুদ হত্যার ঘটনায় নগরীর ৪নং কাপ্তান বাজার এলাকার মাইনুল হাসান মান্না (৩০) এবং জসিম উদ্দিনসহ (৩৫) আরও চার জন জড়িত রয়েছে। তারা মাসুদকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। বাকি ৪ জনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মান্না কাপ্তান বাজারে রড সিমেন্টের ব্যবসা করে। তার সঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানির মার্কেটিং অফিসারদের পরিচয় রয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতকরা পরিকল্পনা নেয় মাসুদকে অপহরণের পর তার কোম্পানি বা পরিবার থেকে মুক্তিপণ আদায় করবে। আবুল খায়ের গ্রুপের মার্কেটিং অফিসার নিহত মাসুদ মান্নার পরিকল্পনা জেনে যায়। তাই তারা মাসুদকে কৌশলে ডেকে এনে হত্যা করে। মাসুদকে হত্যার আগে রশি, অজ্ঞান করার জন্য ইনজেকশন, ছুরি এবং একটা খেলনা পিস্তলসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখে। নগরীর নতুন চৌধুরী পাড়ায় সুমন ভিলা বাসাটি ১৪ হাজার টাকায় ভাড়ায় নিয়ে ৭ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। পরে পাঁচ টন রড লাগবে বলে মাসুদকে ফোনে ডেকে আনে। ঠিকানা অনুযায়ী ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় মাসুদ বাসায় এলে তারা তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
তিনি আরও জানান, মাইনুল হাসান মান্না নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকার জিয়া উদ্দিনের ছেলে। সে ৪ নং ওয়ার্ড কাপ্তান বাজার এলাকার ছাত্রলীগের সভাপতি। তার সহযোগী জসিম উদ্দিন (৩৪) কুমিল্লা সদর উপজেলার মাঝিগাছা নন্দীরবাজার এলাকার তাহের মেম্বারের ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একাধিক ছিনতাই, অপহরণ ও হত্যা মামলা রয়েছে।
পিবিআই জানায়, মুঠো ফোনের কললিস্ট থেকে ক্লু উদঘাটন করে হত্যাকারীদের ফেসবুক থেকে ছবি সংগ্রহ করা হয়। ছবিগুলো সুমন ভিলার মালিক, অন্য ভাড়াটিয়া এবং হত্যা ঘটনার পর আটক হওয়া বাসার তত্ত্বাবধায়ক জুম্মানকে দেখানো হয়। জুম্মান তাদেরকে চিনতে পারে।
তিনি আরও জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে রড সিমেন্টের কোম্পানির মার্কেটিং অফিসারদের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে ডেকে এনে পরবর্তীতে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর রাতে কুমিল্লার নগরীর নতুন চৌধুরী পাড়ায় ভাড়াটিয়া মাসুদুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। মাসুদুর রহমান মজুমদার চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সুবর্ণপুর গ্রামের শামছুল হক মজুমদারের ছেলে। তিনি কুমিল্লায় আবুল খায়ের গ্রুপে চাকরি করতেন। মাসুদ হত্যার ঘটনায় তার ছোট ভাই মাহফুজ মজুমদার বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনের আরও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লার ইন্সপেক্টর বাবু কিশোর কুমার হালদার, ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম।








