বগুড়া শহর, কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা মুক্ত দিবস আজ

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:৪৩, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪৩, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

মুক্তিযুদ্ধআজ ১৩ ডিসেম্বর বগুড়া শহরসহ তিনটি উপজেলা হানাদার মুক্ত হয়। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে বগুড়ার কাহালু ও নন্দীগ্রাম উপজেলা মুক্ত হয়।

বগুড়া শহর মুক্ত দিবস: ১৯৭১ সালের এ দিনে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে বগুড়া শহর মুক্ত করে। টানা তিন দিন যুদ্ধের পর শহরের বৃন্দাবনপাড়া এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। ১০ ডিসেম্বর সকালে মিত্রবাহিনীর ৬৪ মাউনটেন্ট রেজিমেন্টের বিগ্রেডিয়ার প্রেম সিংহ ৯ বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা ও এক ব্রিগেড সৈন্য নিয়ে শহর থেকে তিন মাইল উত্তরে চাঁদপুর, নওদপাড়া, এবং ঠেঙ্গামারা গ্রামের মধ্যবর্তী লাঠিগ্রামের কাছে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান নেয়। সেখানে তিন দিন সম্মুখ যুদ্ধের পর মিত্রবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশন ট্যাংক নিয়ে শহরে ঢোকে। খবর পেয়ে শহরবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা আনন্দ উল্লাস করেন। ১৩ ডিসেম্বর বেলা ৩টার দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিগ্রেডিয়ার এলাহী বক্স সৈন্য ও অস্ত্রসহ মিত্র বাহিনীর বিগ্রেডিয়ার প্রেম সিংহের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বগুড়ায় উত্তোলিত হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

কাহালু হানাদার মুক্ত দিবস: এ দিন বীর মুক্তিসেনারা কাহালুকে হানাদার মুক্ত করে। সকাল ৭টার দিকে চারমাথা রেলগেট এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার অধ্যক্ষ হোসেন আলীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে কাহালু মুক্ত হয়। এ সময় ব্রিগেডিয়ার তোফাজ্জল হোসেন ও মেজর জাকির হোসেনসহ প্রায় ৬৫ জন পাকিস্তানি সেনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বন্দি হয়। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে কাহালুর কড়িবামুজা, জয়তুল, নশিরপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের খণ্ড খণ্ড সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ওই সময় জয়তুল, নশিরপাড়া, গিরাইল, ডোমরগ্রাম, মুরইলসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ১৫০ জন নিরীহ মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়াসহ অনেক নারীর সম্ভ্রম কেড়ে নেয়।

নন্দীগ্রাম হানাদার মুক্ত দিবস: মুক্তিযোদ্ধারা নন্দীগ্রামে হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে স্বাধীনতার বিজয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আজকের দিনে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্করের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে ইউপি ডেরাডং সাব ডিভিশনে ভান্ডুয়া সামরিক কেন্দ্রের ৭ নম্বর সেক্টরে প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের হিলি সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই সময় তারা পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে। এরপর তারা নন্দীগ্রাম আশার পথে কাহালুর কড়ই বামুজা গ্রামে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। ওই যুদ্ধে ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। তারপর আবু বক্করের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ৯ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম প্রবেশ করেন। তিন দফা যুদ্ধ হয়। প্রথমে ১১ ডিসেম্বর নন্দীগ্রামের মন্ডল পুকুর সিএন্ডবি’র রাস্তার পাশ থেকে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের ওপর আক্রমণ করেন। ওইদিন রণবাঘা বড় ব্রিজের কাছে রাজাকারদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ হয়। অপরদিকে বেলঘরিয়ায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে একজন সেনা আত্মসমর্পণ করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকারদের সহযোগিতায় চাকলমা গ্রামের আকরাম হোসেন, বাদলাশন গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ, রুস্তমপুর গ্রামের মহিউদ্দিন, ভাটরা গ্রামের আবদুস সোবাহান, নন্দীগ্রামের মোফাজ্জল হোসেন, হাটকড়ই গ্রামের ছমির উদ্দিন ও তার দুই ছেলে আ. রাজ্জাক ও আবদুর রশিদকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১২ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা থানায় আক্রমণ করে প্রায় দু’শ সেনা ও রাজাকারদের সঙ্গে লড়াই করে। সেই যুদ্ধে ৮০ রাজাকার আটকসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়। নন্দীগ্রামে সব চেয়ে স্মরনীয় ঘটনা ঘটে ডাকনীতলায়। সেখানে পাকিস্তানি সেনারা রাজাকারদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে ব্যাপক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৩ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদার ও রাজাকারদের হটিয়ে নন্দীগ্রাম শত্রুমুক্ত করে স্বাধীনতার বিজয় পতাকা উত্তোলন করে।

/বিএল/

লাইভ

টপ