সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলার পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব যোগেশ্বর চ্যাটার্জীসহ পৌরসভার আরও দুই কর্মচারীকে। তাদের অফিস কক্ষে তালা ঝুলতে দেখো গেছে। প্রধান আসামি পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমেদ পাপলুও এলাকায় নেই। ২১ ডিসেম্বর দুদকের মামলার আগেই তারা অফিস ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ ওঠার পর ২৪ নভেম্বরের পর থেকেই অফিসে আসেন নি তারা।
গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি টাকা আত্মসাৎ মামলায় পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমেদ পাপলু ও প্রকৌশলী যোগেশ্বরসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। আসামিদের মধ্যে প্রকৌশলীসহ বাকি দুই ব্যক্তিও পৌরসভায় কর্মরত। মামলা হচ্ছে এমন খবর তারা হয়তো আগেই পেয়েছিলেন। যার কারণে তারা তিন জনই গত ২৪ নভেম্বর থেকে অফিসে আসছেন না। তাদের অনেকবার খবর দেওয়া হলেও অফিসে আসেন নি তারা। ফলে অফিসের কাজ আটকে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত কার্য সহকারী ছাব্বির আহমদ ২১ দিন এবং নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষারিক জহিরুল ইসলাম ১৫ দিনের ছুটি চেয়ে আবেদন করলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। ওই ছুটির দরখাস্তে সুপারিশ করেন মামলার আরেক আসামি প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব যোগেশ্বর চ্যাটার্জী।’ এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে আগামী ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের একটি দল একাধিকবার পৌরসভায় এসে তদন্ত করেছে। আমরা চাই এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাক তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
সরেজমিনে রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, মামলার প্রধান আসামি সাবেক মেয়র পাপলুর অন্যতম সহযোগী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব যোগেশ্বর চ্যাটার্জীর কক্ষে তালা ঝুলানো। অফিস সূত্রে জানা যায়, তারা ২৪ নভেম্বর থেকে অফিসে অনুপস্থিত এবং ২৮ নভেম্বর ছুটির দরখাস্ত দিয়েছেন।
প্রকৌশলী কক্ষে তালা ঝুলে থাকার কারণ জানতে চাইলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানান ‘হুনছি (শুনেছি) সরকারি টাকা মারছইন (আত্মসাত) তারা, এর লাগি ভাগাত (পলাতক)’। নিচ তলার সাধারণ শাখায় গিয়ে পাওয়া যায়নি অভিযুক্ত পৌরসভার কার্য সহকারী ছাব্বির আহমদ এবং নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষারিক জহিরুল ইসলামকে। তাদের বসার চেয়ার দুটিই খালি রয়েছে। ওই শাখায় বিভিন্ন কাজ করছেন আদায়কারী আবু সাঈদ হিরা।
আবু সাঈদ হিরা বলেন, ‘ছাব্বির আহমদ ও জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পৌরসভার টাকা আত্মসাতের মামলা করেছে দুদক। মামলা হওয়ার আগ থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন। তাদের অবর্তমানে কাজ করতে হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে পৌরসভার প্যানেল মেয়র হেলালুজ্জামান হেলাল বলেন, ‘মামলা দায়েরের আগে থেকেই অভিযুক্তদের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। সাবেক পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমেদ পাপলুও এলাকায় নেই। মামলার ব্যাপারে তারা সম্ভবত আগেই বুঝতে পেরেছিল।’
উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও এক কর্মচারীর সই জাল করে সরকারি ৬ লাখ ২৯ হাজার ৭২২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু, নির্বাহী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত সচিব যোগেশ্বর চ্যাটার্জীসহ চার জনের বিরুদ্ধে গত ২১ ডিসেম্বর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাপলুকে প্রধান আসামি করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় সিলেটের সহকারী পরিচালক দেবব্রত মণ্ডল।
এ সংক্রান্ত সংবাদ:
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক মেয়রসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা








