গাজীপুরের শ্রীপুর-কাপাসিয়া সড়কের দস্যু নারায়ণপুর এলাকায় ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আশপাশের লোকজন বাড়ি-ঘর ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন। সোমবার ভোর ৫টার দিকে সড়কের প্রায় চারশ’ ফুট এলাকা শীতলক্ষ্যা নদীতে দেবে গেলে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ভূমি ধসের কারণে শ্রীপুর-কাপাসিয়া সড়কের কিছুটা দেবে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ভোর পাঁচটার দিকে গাছপালার মড় মড় ও শোঁ শোঁ শব্দে তারা জেগে উঠেন। পরে বাড়ির বাইরে বের হয়ে ভূমি ধসের ঘটনা দেখতে পান। ধস ক্রমশ বাড়ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছে।
অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সাধন দাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ নিয়ে এখানে তিনবার ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬৪ সনের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার ভূমিধস হয়। এরপর ২০০৩ সনের ফেব্রুয়ারিতে এবং সর্বশেষ সোমবার ভোরে একই রকমভাবে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, এবার সড়কের কমপক্ষে চারশ’ ফুট অংশের ১০ ফুট দেবে গেছে। আশপাশের কমপক্ষে ১৫টি বাড়ি দেবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পর পর তিনবার ভূমি ধসের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে আবাসিক এলাকার দিকে ঢুকে পড়েছে।
২০০৩ সনে ভূমি ধসের পর জাইকার প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘরবাড়ি ও সড়ক রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ দেওয়ার পরার্মশ দিয়েছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় এক ব্যাবসায়ী বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘তার এক একর জমি নদীতে দেবে গেছে।’ অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পর পর কয়েকবার এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবী করেন।
কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাকছুদুল ইসলাম জানান, সড়কের ৫০ ফুটের মতো এলাকা দেবে গেছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। স্থানীয় সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সড়কের এ অংশে পাইলিংসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সড়ক চলাচল স্বাভাবিক করতে গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কাজ শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: ড. দীপংকর ভান্তেসহ তার অনুসারীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ








