দিনাজপুরে ‘রূপালী বাংলা জুট মিলে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ১২ জনের মধ্যে দুই শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির অপর চার সদস্য হলেন, বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহফুজ্জামান আশরাফ, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান ও কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক জুলফিকার আলী।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময়ও গুদামের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া পাটের স্তুপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জুট মিলটি পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় দগ্ধ ১২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি লিপু ও জামিনি বালার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
জুট মিলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল লতিফ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার বেশিরভাগ যন্ত্রপাতিই পুড়ে গেছে। এছাড়াও পাট, তৈরি বস্তা ও ব্যাগসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে গেছে। এর ফলে তার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্পের অধিকাংশই নষ্ট ও অকেজো হয়ে গেছে। এসব যন্ত্রপাতি প্রকৌশলীদের দিয়ে পর্যবেক্ষণের পর কোনটা কোনটা চালানোর উপযোগী আছে তা জানা যাবে। এরপরই লোকসানের প্রকৃত হিসাব পাওয়া যাবে।
মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে বিরল উপজেলার হুসনা এলাকায় রূপালী বাংলা জুটমিলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। নিমিষেই আগুন মিলে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দিনাজপুর ও সেতাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ৯ ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন: শাবিতে র্যাগিংয়ের দায়ে দুই জনকে আজীবন বহিষ্কারসহ ১৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থ







