কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত জাহাঙ্গীরনরগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটর জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ যতজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি তাদের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তাদের বলেছি, এটা এভাবে সমাধান করা যায় না। আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হতে পারে। তার জন্য টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, লাঠিপেটা করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। আমরা কেন এরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়লাম! আমি এর জবাব চাই।’
কোটা সংস্কারের দাবি ও আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল সাড়ে দশটার থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দুইটা পর্যন্ত দেড় ঘন্টার পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। পরে তিনটার দিকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম প্রধান ফটক সংলগ্ন রাস্তায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান উপাচার্য।
উপাচার্য বলেন, ‘পুলিশ এবং শিক্ষার্থী যখন মুখোমুখি হয় তখন নানা অঘটন ঘটে। এবার এই অঘটন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। পুলিশের এই অঘটন ঘটানো ঠিক হয়নি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, তিনি যেন পুলিশকে থামতে বলেন। ইতোমধ্যে প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। আমরা আর রক্তপাত চাই না।’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘৫৬% কোটা আসলেই জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন আছে, আমরা তোমাদের পাশে আছি। প্রয়োজন হলে তোমাদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে আন্দোলন করবো।’
সহিংস আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান উপাচার্য ফারজানা ইসলাম।
এসময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।








