কালবৈশাখী ঝড়ে তিন জেলায় হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত ২

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২৯, এপ্রিল ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৫, এপ্রিল ১৮, ২০১৮

মনপুরায় ঝড়ে উড়ে যাওয়া ঘরকালবৈশাখী ঝড়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলা বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিন জেলায় ঝড়ের কারণে বিধ্বস্ত কাঁচা ঘরবাড়ির সংখ্যা হাজারেও বেশি। বরিশালে একজন এবং ভোলায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে।  

মঙ্গলবার বিকালের ঝড়ে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে উঠতি বোরো ধান, পানের বরজসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ো হাওয়ায় গাছচাপা পড়ে বরিশালের মুলাদীতে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।মনপুরায় ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি

বরিশালের গৌরনদী, বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও বরিশাল সদর উপজেলাসহ জেলার বেশ কিছু এলাকায় প্রচণ্ড বাতাসে গাছপালা উপড়ে গেছে। বিলবোর্ড, সাইনবোর্ডসহ বসতঘরের টিনের চালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গৌরনদী উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে উঠতি বোরো ধান, পানের বরজসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হযেছে। ঝড়ে গাছপালা, একাধিক মসজিদসহ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাউদের খালপাড়, কটকস্থল ও ইল্লায় এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

মুলাদীর সফিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবু মুসা জানান, ঝড়ের সময় গোয়ালে গরু বাঁধতে গিয়ে ইউনিয়নের পশ্চিম বোয়ালিয়া গ্রামের রশিদা বেগম (৩১) নামে এক গৃহবধূ গাছচাপায় মারা গেছেন। তিনি ওই গ্রামের জালাল মজুমদারের স্ত্রী।ভোলার লালমোহনে ঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুলঘর

ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর ও গাছচাপা পরে অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত দুই জনকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও তিন জনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাসরিন জানান, ঝড়ে আহতদের সরকারি ভাবে চিকিৎসা সহযোগিতা দেওয়া হবে।

গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম ফজলুর হক জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পরে শতাধিক স্থানে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক ১০টি খুটি ভেঙে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ভোলার লালমোহন ও মনপুরায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। লালমোহনে ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ চার শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের কবলে নৌকাডুবিতে এক মাঝি নিহত হয়েছেন। ভেঙে পড়া ঘর ও গাছের চাপায় পড়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।লালমোহনে ঝড়ে বিধ্বস্ত ঘর

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল হাসান রুমি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত দেড়শ ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও আড়াইশ ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’

কালবৈশাখী ঝড়ে ভোলার মনপুরা উপজেলার চার ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট  বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি-বেসরকারি দফতরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। রবি শস্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে ও উপড়ে পড়েছে বহু গাছপালা। বসতঘর হারিয়ে অনেকে এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন।

ভোলার লালমোহনে ঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুল

ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই জানান, ঝড়ে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার টিনের চাল উড়ে গেছে। ক্লাশরুম ভেঙে ধুমড়ে-মুচড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। একই অবস্থা এ ইউনিয়নের আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল আজিজ ভূঁঞা বলেন, ‘ঝড়ে উপজেলার পাঁচ শতাশিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবো।’ঝালকাঠিতে বিধ্বস্ত লঞ্চ টার্মিনাল

ঝালকাঠিতে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলা লঞ্চ টার্মিনালের পন্টুনসহ একটি লঞ্চ নদীতে ভেসে গেছে; বিধ্বস্ত হয়েছে লঞ্চ টার্মিনাল। এ ছাড়া, লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ২০টি দোকান ও বসতঘর ভেঙে নদীতে চলে গেছে। তবে এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ওই সব এলাকার কাঁচা-পাকা ঘর। এ ছাড়া, কাঠালিয়ার আমুয়া বন্দর বেড়িবাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন- কুমিল্লায় বজ্রাঘাতে তিন জনের মৃত্যু


/এফএস/

লাইভ

টপ