বিএনপির মনোনীত, ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে অনেক অভিযোগ দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এই নির্বাচন কমিশন সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। এখনও দলীয় নেতাকর্মীদের এবং নারী কর্মীদের ভয়ভীতি এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাই কোনও গুজবে এবং সরকার দলীয় প্রার্থীর হুমকিতে ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে মাঠে থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যেতে হবে।’ একই সঙ্গে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেন বুলবুল।
সোমবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের শীষের গণসংযোগের সময় সদ্য বিদয়ী মেয়র এসব কথা বলেন।
বুলবুল বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশ এবং রাজশাহী নগরীর একমাত্র উন্নয়নের রূপকার। এই উন্নয়নকে বাধা দিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী এবং তাদের অন্যান্য নেতাকর্মীরা রাজশাহীবাসীকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী ধ্বংসের রাজনীতিতে মেতে উঠেছে। তারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনের নিশ্চিত পরাজয় এবং বিএনপি ও ২০দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করছে। কিন্তু রাজশাহীবাসী জানেন, রাজশাহীর উন্নয়ন করার জন্য বিএনপির কোনও বিকল্প নাই।’
মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে কোটি কোটি টাকার পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন সারা শহরের টাঙিয়ে রেখেছে। সিটি করপোরেশনের বিজ্ঞাপনি স্থানগুলোতেও লিটনের ফেস্টুন টানানো রয়েছে। এতে করে সিটি করপোরেশন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কিন্তু এগুলো দেখার কেউ নেই। পুলিশ বিভাগ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন শুধু বিএনপির নেতাকর্মীদেরে দেখতে পায়।’
এদিকে সোমবার বিকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ধানের শীষের পক্ষের নেতাকর্মীদের বিনা ওয়ারেন্টে গণগ্রেফতার করায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন চারটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগগুলো হচ্ছে, ২২ জুলাই আনুমানিক ১১টায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবনেতা বাচ্চু এবং রাত ১১ টায় রাজপাড়া ছাত্র নেতা রানাকে নিজ বাসা থেকে পুলিশ আটক করে। ২৩ জুলাই রাত ১টায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বি.এন.পি সভাপতি সাজ্জাদকে ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ আটক করে। ২৩ জুলাই রাত ২টায় ১৩ নং ওয়ার্ড যুবনেতা ডোমনকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৩ জুলাই বিকাল ৩ টায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ধানের র্শীষ প্রতীকের মাইকে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বাধা সৃষ্টি করে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান বলেন, ‘অনেক জায়গায় বড় মাপের পোস্টার ছিল। সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর অভিযোগগুলোর ব্যাপারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







