প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৭ বছর পরও শুরু হয়নি খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:০৭, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতে-কলমে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা, ছবি: সংগৃহীতপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এর ৪ বছর পর ২০১৫ সালের ৫ জুলাই সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যলয় বিল’ পাস হয়। তারপরও তিন বছর কেটে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পদক্ষেপ আর এগোয়নি। এরই মধ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমানকে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছে খুলনাবাসী।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ নিয়ে ধীরগতির কারণে খুলনাবাসী হতাশ ছিল। ৭ বছর পর উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ায় এ নিয়ে আশায় দেখিছি। 
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য বলেন, তিনি আগামীকাল রবিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে উপাচার্য পদে যোগদান করবেন। এরপর খুলনায় গিয়ে বাস্তব অবস্থা দেখবেন। আইন পাশ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়গুলো কী অবস্থায় আছে সে সম্পর্কে খোঁজ খবর নেবেন এবং সার্বিক বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হবেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি ও সচেতন সমাজের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
খুলনার জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর ২০১১ সালের ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণের জন্য তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেককে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি মহানগরীর দৌলতপুর কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জায়গায় খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রস্তাব অনুমোদন দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর জমির ম্যাপ, দাগ-খতিয়ানসহ অন্যান্য তথ্য উপাত্ত চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) নূর মোহাম্মদ মোল্লা খুলনা জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন। চিঠি পেয়ে ২৭ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যাবতীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়। তখন অধিগ্রহণের আওতায় থাকা ৬২ একর জমির দাম ছিল ৪০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প প্রণয়নে মন্ত্রণালয় থেকে আইন তৈরিতে জোর দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাস হয়। এরপর ফের জমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন পাঠানোর জন্য খুলনা জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয় ইউজিসি। ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আড়ংঘাটা মৌজার ৬২ একর জমির প্রাক্কলন ব্যয় ইউজিসিতে পাঠানো হয়। এতে অধিগ্রহণ ব্যয় ধরা হয় ১৩১ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ