১৬ ঘণ্টা আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ, ৮ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৩৪, এপ্রিল ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫০, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

ধর্ষণরংপুরের পীরগাছায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ১৬ ঘণ্টা আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় ৮ দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পীরগাছা থানার ওসি রেজাউল করিম মামলা না নেওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, ধর্ষককে আটকের পর মামলা নেওয়া হবে।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পূর্ব দেবু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই কিশোরীকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলা নেওয়ার জন্য খরচ বাবদ পুলিশ তিন হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্যাতিতার স্বজনরা জানান, গত শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুরে পূর্ব দেবু গ্রামের ওই কিশোরী কাপড় ধুয়ে বাড়ির কাছেই শুকাতে দিতে যায়। এ সময় একই গ্রামের মুরগির ফার্মের মালিক করিম উদ্দিনের ছেলে রুবেল ওই কিশোরীকে মুখে কাপড় চাপা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে মেয়েটিকে মুরগি ফার্মের পাশে একটি ঘরে ১৬ ঘণ্টা আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ভোরের দিকে মেয়েটির বাড়ির কাছে ফেলে রেখে ধর্ষক রুবেল পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেছে। মেয়েটি এখন সেখানে আছে। এই ঘটনার পরের দিন পীরগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয় নির্যাতিতার বড় ভাই রওশন জামিল।

তিনি জানান, ৮ দিন হয়ে গেছে পুলিশ এখনও মামলা রেকর্ড করেনি। ধর্ষককে গ্রেফতারের পর মামলা রেকর্ড করবে বলে জানিয়েছেন ওসি রেজাউল করিম ও ওসি (তদন্ত) আজিম উদ্দিন। মামলার খরচ হিসেবে ওসিকে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও ওসি মামলা রেকর্ড করেনি। থানায় গিয়ে অনুরোধ করা হলে পীরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) আজিম উদ্দিন ও এসআই এমরান বারবার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে চলে যায়। মামলা রেকর্ড কিংবা আসামিকে গ্রেফতারের ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে নির্যাতিতার মা, ভাইসহ স্বজনরা।

মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসাফুদৌলা জানান, মেয়েটিকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশ দেখবে।

হাসপাতালের আয়া মমিনা বেগম জানান, মেয়েটিকে যেদিন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তখন সে অজ্ঞান ছিল। ওই কিশোরীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ওসি (তদন্ত) আজিম উদ্দিন ও ওসি রেজাউল করিমের সঙ্গে দেখা করতে পীরগাছা থানায় গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে ওসি তদন্ত আজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে ধর্ষককে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।’ তাকে গ্রেফতারের সঙ্গে মামলা রেকর্ড না করার কি সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

অন্যদিকে পীরগাছা থানার ওসি রেজাউল করিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জরুরি কাজে রংপুরে এসেছি।’

তিনিও মামলা রেকর্ড করা হয়নি স্বীকার করে বলেন, ‘আগে আসামিকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি।’ তিনি তিন হাজার টাকা নেওয়ার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এ সময় কেন মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলো না জানতে চাইলে তিনি কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি।

/জেবি/এমওএফ/

লাইভ

টপ