নারীকে থানায় মারধর ও সিগারেটের ছ্যাঁকা: ওসি ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪৩, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১২, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

শিশির কুমার পালবরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল ও কনস্টেবল জাহিদের বিরুদ্ধে বরিশাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানার ভেতরে ও বাইরে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকালে ভিকটিম রাশিদা বেগম (৫২) বাদী হয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক সানা মো. মাহরুফ হোসাইন মামলা আমলে নিয়ে পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী মাদারীপুর সদর উপজেলার হাজির আলী গ্রামের মৃত হেলাল মাতুব্বরের স্ত্রী রাশিদা বেগম উজিরপুর উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ওসি শিশির পালের হুকুমে রাশিদার ভাড়া বাসার মালামাল আটক করে রাখা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর লোক মারফত মালামাল ফেরত দেওয়ার কথা বলে রাশিদাকে ডাকা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় থানার সামনে চায়ের দোকানে গেলে দুই নম্বর আসামি কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম (৯৬৮) রাশিদাকে প্রথমে মারধর করে। বাদী প্রতিবাদ করলে জাহিদুল তাকে দোকানের দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে। ফের প্রতিবাদ করলে জাহিদ তার দুই গালে ও ঠোঁটে সিগারেটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেয়। বাদী ওসি’র কাছে নালিশ করতে গেলে ওসিও তাকে মারধর করে। শিশির কুমার পাল তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বলে- তোর বাবা ডিআইজি’র কাছে যা। ওসিকে বিচারের জন্য বললে সে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বাদীর চুলের মুঠি ধরে টেনে হিঁচড়ে গোল ঘরের পাশে নিয়ে যায়। বাদীর মুখের মধ্যে ওসি তার আঙুল ঢুকিয়ে মুখ চেপে ধরে। তাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে। এক পর্যায়ে ওসি তাকে উঠিয়ে আছাড় মারে। এতে বাদী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন।’

এই আইনজীবী আরও জানান, ‘কিছুক্ষণ পর বাদীর ছেলে বাবু এসে ওসি’র বর্ণিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে ওই ছেলেকে থাপ্পড় দেয় ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখে ওসি। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ না করতে ও মামলা দায়ের না করার বিষয়ে শাসিয়ে দেয়। মামলা করলে ভয়াবহ অবস্থা হবে বলে হুমকি দেয়। এমনকি কনস্টেবল জাহিদ বাদীর গলা থেকে ১৩ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিনে নেয়। বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে উজিরপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওসি ও কনস্টেবলের হস্তক্ষেপে তাকে ভর্তি করতে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানেও একই কারণে ভর্তি করা হয়নি বলে বাদী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।’

এ ব্যাপারে ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।’

বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আদালত থেকে আমরা তদন্তের একটি নির্দেশ পেয়েছি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’  

 

/এফএস/

লাইভ

টপ