‘বসন্তের কোকিলরা নেতৃত্বে গেলে ফের দুঃসময় আসতে পারে’

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৫৩, অক্টোবর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৫, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাঅভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না। দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারে না। আজকে বসন্তের কোকিলরা যদি দলের নেতৃত্ব নেয়, তারা যদি প্রাধান্য পায়, আবারও দুঃসময় আসতে পারে। আবারও দুর্যোগ আসতে পারে। আবারও অমানিশা আসতে পারে। সে সময় হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও এই সুবিধাবাদী ও অপকর্মকারীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

রবিবার (১৩ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারবে না। এজন্য ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিতে হবে। রাজনীতিতে স্থায়ী বলে কিছু নেই। শেখ হাসিনা ছাড়া কারও পদই স্থায়ী নয়। কোনও পদ কারও কাছে লিজ দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দলে ক্লিন ইমেজের লোক দরকার। সারাদেশে নতুন মডেলের ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই। বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। আগামী দিনের আওয়ামী লীগ হবে আরও স্মার্ট, আধুনিক ও ক্লিন ইমেজের। আমরা স্মার্ট আওয়ামী লীগ চাই। আরও আধুনিক আওয়ামী লীগ চাই, বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। দূষিত রক্ত চাই না। দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।’

আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূলের মেয়াদ উত্তীর্ণ সব কমিটি গঠন করতে হবে। এ নিয়ে কারও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। যারা পদ পেয়ে ছাড়তে চান না তারা মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা কেউই অপরিহার্য নয়। কোনও পদ কারও কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি। পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আজকে প্রভাব খাটাবেন, জোর করে পদ দখল করে রাখবেন, মনে হয় যেন মৃত্যুর আগে পদ ছাড়বেন না, এরকম লোকও আছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এই অ্যাকশন থেকে কোনও অপরাধী রেহাই পাবে না। মাদক, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও জুয়াড়িরা কেউ ছাড় পাবেন না।’

বিএনপিকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার পৃষ্ঠপোষক বিএনপি গভীর খাদের কিনারে পৌঁছে গেছে। তাদের আন্দোলন করার কোনও শক্তি নাই, গলাবাজি ছাড়া।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকে বড় বড় কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বুকে হাত দিয়ে বলুন, হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, লুটেরা ভবন, সারা বাংলাদেশকে লুট করেছেন। খুনে খুনে বাংলাদেশ রক্তনদী হয়ে গেছে। লাশে লাশে বাংলাদেশে লাশের পাহাড় হয়ে গেছে। বিচার কি হয়েছে? শাস্তি কি কেউ পেয়েছে? আজকে বড় বড় কথা বলেন, গলাবাজি করেন।’

ক্যাসিনো প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে ক্যাসিনোর কথা বলেন, গডফাদারের কথা বলেন। এসবের সৃষ্টি কারা করেছে? বঙ্গবন্ধু মদ ও জুয়া আইন করে বন্ধ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সেটা চালু করেছেন। এ জুয়ার স্রষ্টা হচ্ছেন আপনারা। ড্রাগের দিকে দেশের তরুণদের ঠেলে দিয়েছেন আপনারা। বড় বড় কথা বলেন কোন মুখে। মির্জা ফখরুল বলেছেন সরকার আজকে খাদের কিনারে। আমি বলতে চাই, যে দলকে জেল, জুলুম ও নির্যাতন করে আপনারা নিঃশেষ করতে পারেননি, যে দল বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছে সেই দল কোনোদিন খাদের কিনারে যাবে না। বিএনপিই আজকে গভীর খাদের কিনারে। আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, সবকিছুতেই ব্যর্থ।’

/ওআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ