ভবনের ওপর আলো পড়ে না তাই কেটে ফেলা হলো শতাধিক গাছ!

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:০৮, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:১৩, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

single pic template-1 copyকক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের শতাধিক বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই কার্যালয়ের বড় বড় এসব গাছ সুশীতল ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখছিল। কিন্তু, হঠাৎই বন বিভাগের অনুমতি ও বিশেষ কারণ ছাড়াই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনের ওপর আলো পড়ে না তাই গাছগুলো কাটা হয়েছে।

এ নিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, গাছগুলো কেটে ফেলায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, ওই কার্যালয়ে সদ্য যোগদান করা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদারের নির্দেশেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু বলেন, ‘মাহবুব আলম তালুকদার হঠাৎ শীতল সবুজ ছায়া দানকারী গাছগুলো কেটে ফেলেছেন। বড় বড় গাছের ছায়ায় কারণে অফিসটি দর্শনার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় ছিল। এখানে অনেক পাখির আবাসস্থলও ছিল। একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনার কারণে শতাধিক মাতৃগাছের প্রাণ গেল। পরিবেশেরও অপূরণীয় ক্ষতি হলো।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গাছের ডালপালা কাটার নাম দিয়ে শতাধিক বড় গাছ কাটা হয়েছে। এই গাছ কাটার জন্য কোনও দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। পরিবেশ অধিদফতরের কোনও ছাড়পত্রও নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বন বিভাগকেও জানানো হয়নি। ওই অফিসের আঙিনায় থাকা শতাধিক গাছ কেটে তা টুকরো করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। আরও কয়েকটি গাছ কাটার জন্য শ্রমিকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গাছ কাটায় নিয়োজিত একজন শ্রমিক জানান, কর্তৃপক্ষের আদেশে তারা বড় আকারের অর্ধশত মেহগনি গাছ কেটেছেন। এছাড়াও ছোট আকারের কিছু গাছও কাটা হয়েছে। গাছের গুঁড়িগুলো কী করা হবে তা কর্তৃপক্ষ জানে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘অফিস ভবনের সংস্কারকাজ চলছে। এই কাজের অংশ হিসেবে অফিস আঙিনায় সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হবে।’ গাছ কাটার প্রসঙ্গে  তিনি বলেন, ‘অফিস আঙিনায় এতো বেশি গাছ হয়েছে যে কারণে ভবনের ওপর সূর্যের আলো পড়ে না। তাই কিছু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। আরও কিছু গাছ কাটা হবে। প্রয়োজনে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে।’

গাছগুলো কাটা ও বিক্রির জন্য কোনও টেন্ডার দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বন বিভাগের অনুমতি নেওয়া হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি কোনও গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয়। বন বিভাগের কর্মীরা সরেজমিনে গাছের পরিমাপ করে মূল্য নির্ধারণ করেন। সরকারি একটি ফি নিয়ে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এই কার্যালয়ের আঙিনার গাছ কাটার বিষয়ে বন বিভাগকে অবহিত করা হয়নি।’

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফরের উপ-পরিচালক মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘গাছ কাটার বিষয়টি মূলত বন বিভাগ দেখে। এতে আমাদের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে, বৃক্ষনিধন অপরাধ। যেই কাটুক না কেন, এটি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি।’

/এমএএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ
X