সাদুল্যাপুরে মসজিদের ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

Send
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৩৯, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৪৯, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

লাশ

 

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে মওলানা আবুল কালাম আজাদ (৪৭) নামে মসজিদের এক ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের গোবিন্দরায় দেবত্তর গ্রামের একটি আম গাছ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মওলানা আবুল কালাম আজাদ একই ইউনিয়নের মহিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত. ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলার দূর্গাপুর গাবেরদিঘি এলাকার জামে মসজিদের পেশ ইমাম ছিলেন। 

সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) জুম্মার নামাজ পড়ানোর জন্য (ওই দিন) বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে দূর্গাপুর গাবেরদিঘি এলাকার উদ্দেশে রওনা হন। তারপর থেকে তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার (১৯ অক্টোবর) ভোরে এলাকাবাসী তার বাড়ির অদূরে একটি আম গাছের ডালের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারের হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের বড় মেয়ে ফতেমা বেগম জানান, ৮মাস আগে তার বাবা অভাবে পরে পলাশবাড়ী উপজেলার উদয়সাগর এলাকার এক দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কাছে থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। কিছুদিন আগে সেই টাকা পরিশোধও করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারেন তাকে ওই টাকার সুদ দিতে হবে। গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) ওই টাকার সুদের (লাভের) জন্য শাহারুল তার সহযোগী শরিফুল ও মিলনকে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। তারা সুদের (লাভের) টাকার জন্য ইমাম আবুল কালামকে চাপ দেন। কিন্তু ইমাম আবুল কালাম সুদের টাকা দিতে অপারগতা জানান। এতে দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। তাদের দাবি, ওই দাদন ব্যবসায়ীরাই ইমাম আবুল কালামকে হত্যার করেছে।

এর সত্যতা স্বীকার করে মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডল জানান, বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক পলাশবাড়ী থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ওসি মাসুদুর রহমান জানান, চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম মণ্ডলের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে রাতেই তিনি সাম্ভব্য স্থানে তাদের খোঁজ করেছেন। কিন্তু ইমাম আবুল কালাম ও দাদন ব্যবসায়ী শাহারুলের কারো সন্ধান পাননি।

তবে সাদুল্যাপুর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’ 

 

/জেবি/

লাইভ

টপ