ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর, আ.লীগের ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪৬, অক্টোবর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:০৩, অক্টোবর ২২, ২০১৯

মামলা

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিন্টুকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৮ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সোমবার বিকালে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা (নং-৩৪৩সি/১৯ গাবতলী) করেন। বিচারক শুনানি শেষে এ ব্যাপারে পিবিআই বগুড়াকে আগামী ২৭ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশে দিয়েছেন।

আসামিরা হলেন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজাহান আলী (৫০), গাবতলী পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশিক মন্ডল (৪০), মো. আতিক (৪২), গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল গফুর (৪২), জনাব আলী মন্ডল (৫০), নজরুল ইসলাম (৪৮), বজলুর রশিদ দোলা (৪৫) ও জিল্লুর রহমান মজনু (৪৫)।

গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিন্টু গত ২০১৬ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বারের মত নশিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

মিন্টু এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামিরা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজী করেন। প্রধান আসামি গাবতলী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাবতলী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে অন্যরা বিভিন্ন সময় তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি গত ১০ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে গাবতলী উপজেলা কমপ্লেক্সে খাদ্য অফিসে ভিজিডির জন্য বরাদ্দ চালের ডিও আনতে যান। এ সময় আসামিরা আবারও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে জখম ও খুনের হুমকি দেন। তিনি গত ১৭ অক্টোবর বেলা ১১টায় উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় যান। জোহর নামাজ আদায় শেষে তৃতীয় তলায় সমন্বয় সভায় যাওয়ার সময় সিঁড়িতে উঠলে আসামিরা অতর্কিত তাকে ঘিরে ধরেন এবং আবারও চাঁদা দাবি করেন। এরপর তারা তাকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি আহত হন। এসময় তার চিৎকার শুনে উপজেলা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান রফি নেওয়াজ খান রবিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওনক জাহান সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলেও তারা পরবর্তীতে কোনও ব্যবস্থা নেননি। এছাড়া থানায় গেলে পুলিশ আসামিদের পরিচয় জেনে মামলা নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে গাবতলী থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, তার কাছে মিন্টু চেয়ারম্যান মামলা করতে আসেননি। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা পৌর কাউন্সিলর শাহজাহান আলী ও অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিন্টু তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ