দিঘীনালায় সেতু না থাকায় দুর্ভোগে ১৩ গ্রামের মানুষ

Send
জসিম মজুমদার, খাগড়াছড়ি
প্রকাশিত : ০৯:৩৮, অক্টোবর ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫২, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

এভাবে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয় স্থানীয়দেরস্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাইনী নদীর ওপর সেতু না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ১৩ গ্রামের হাজারো মানুষ। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ভরা নদী পার হতে গিয়ে নদীতে তলিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সেতু নির্মিত হলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরত্ব কমবে।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রহমান কবির রতন জানান,  খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুংয়ের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মাইনী নদীতে কোনও সেতু না থাকায় ১৩ টি গ্রামের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  সেতু না থাকায় মেরুং বাজার সংলগ্ন তথা মাইনী নদীর পূর্ব পাড়ের ছোট হাজাছড়া, নেত্রজয় কার্বারী পাড়া, বাবুন্যা কার্বারী পাড়া, বাদলছড়ি, চৌকাবা ছড়া, ছদকছড়া, অঙ্গদা কার্বারী পাড়া, অনিন্দ কার্বারী পাড়া সুরেশ কার্বারী পাড়াসহ আরও  বেশ কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে নদী পারাপারের সময় নৌকা উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতি বছরই মারা যাচ্ছে কেউ না কেউ। অকাল মৃত্য, সম্পদহানী ও দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  সেতুটি নির্মিত হলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং অংশে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্য সামগ্রী নষ্ট হবে না। তাছাড়া, খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালার সঙ্গে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুরত্ব কমবে প্রায় ২০ কিলোমিটার। সময় বাঁচবে প্রায় দুই ঘণ্টা। 

মেরুং এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ফারুক আলমগীর জানান, আমরা ৪৮ বছর ধরে একটি ব্রিজ তৈরির দাবি জানিয়ে আসছি। ১৩টি গ্রামের মানুষ শুষ্ক মৌসুমে কোনও রকম নদী পার হতে পারলেও বেশি বৃষ্টি হলে এক রকম বন্দি হয়েই থাকতে হয়। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। বর্ষাকালে নদী পার হতে গিয়ে গত বছর হাজাছড়া গ্রামের লেদু মাঝি মারা গেছেন। তিনি বলেন, ‘সেতুটি নির্মিত হলে আমাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে। বর্তমানে নদী পারাপারে মাত্র একটি নৌকাই ভরসা। নদীর এপার থেকে ওপারে যাবার জন্য রশি ধরে যেতে হয়। এছাড়া কিছু ইঞ্জিন চালিত নৌকা আছে। সেগুলো দিয়ে পার হতে বেশি টাকা লাগে।’

স্থানীয় বাসিন্দা কেএম ইসমাইল বলেন, ‘বর্ষাকালে এপাড় থেকে ওপাড়ে যাওয়া দুরুহ হয়ে পড়ে। ফলে কেউ অসুস্থ হলে তাকে দিঘীনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু আজও  আমাদের দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

একটি নৌকাই পারাপারের একমাত্র ভরসা

আবুল হোসেন নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, শীতকালে নদীর পূর্বপাড়ের কৃষকদের পণ্য সামগ্রী বেচাবিক্রির সুযোগ থাকলেও বর্ষাকালে তা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া ছেলে মেয়েদের ক্ষতি হয়। একটি সেতু নির্মিত হলে পুরো এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু বারবার দাবি জানানোর পরেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আদনান আখতারুল আজম  বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু দিনের মধ্যে মেরুং সংলগ্ন মাইনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য এরইমধ্যে দরপত্র আহ্বান কাজও শেষ হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে ওয়ার্ক অর্ডার দেবার পর কাজ শুরু হবে।’

দিঘীনালা উপজেলা চেয়ারম্যান কাশেম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর ব্রিজটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে খাগড়াছড়ি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর। চলতি বছরেই এর নির্মাণ শুরু হবে। সেতুটি নির্মিত হলে এই এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।’

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ