পাঠদানের অনুমোদন নেই, তবু এমপিও'র তালিকায়!

Send
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৪২, নভেম্বর ০১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৯, নভেম্বর ০১, ২০১৯




 জামালপুর সদরের দিপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজে কৃষি ডিপ্লোমা কোর্সের পাঠাদানের অনুমোদন নেই। শাখাটিতে নেই কোনও শিক্ষক-কর্মচারীও। শিক্ষার্থী রয়েছেন মাত্র চার জন। তবু এমপিওভুক্তির তালিকায় উঠে এসেছে এ শাখার নাম! প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, কলেজের এইচএসসি (বিএম) শাখার জন্য এমপিওভুক্তির আবেদন করা হয়েছিল। তবে তালিকায় নাম এসেছে কৃষি ডিপ্লোমা শাখার। বিষয়টিতে হতবাক কলেজ কর্তৃপক্ষ।

কলেজ সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, শামছুল হক ডিগ্রি কলেজের সংযুক্ত দুটি শাখার মধ্যে একটি এইচএসসি (বিএম) শাখা, অপরটি কৃষি ডিপ্লোমা শাখা। বিএম শাখা এমপিওভুক্তির জন্য জামালপুর-৫ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন ২৭ মে ডিও লেটার দেন। এই শাখার একাডেমিক স্বীকৃতি আছে এবং ফলাফলও সন্তোষজনক। পাসের হার শতকরা ৮৭ শতাংশ। বিএম শাখার তিনটি ট্রেডে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বর্তমানে ২৪৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০০৫ সাল থেকে এই শাখায় কর্মরত আছেন সাত জন শিক্ষক-কর্মচারী। তবে এমপিওভুক্তির তালিকায় এ শাখার নাম আসেনি।

অন্যদিকে তালিকায় নাম আসা কৃষি ডিপ্লোমা শাখার শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র চার জন। এ শাখায় নেই কোনও শিক্ষক-কর্মচারী। শাখাটির পাঠদানের অনুমোদনও নেই। এ শাখার এমপিওভুক্তির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোনও সুপারিশও ছিল না।

কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেনবেইজ সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই না করার কারণেই কৃষি ডিপ্লোমা শাখা এমপিওভুক্ত হয়েছে।

জানা যায়, ১৯৮৫ সালে দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। জামালপুর-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ৬ দশমিক ১৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি স্থানীয় দরিদ্র মানুষের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখছে।

এদিকে শতভাগ যোগ্যতা থাকার পরেও এমপিওভুক্তির তালিকায় নাম না আসায় কলেজটির বিএম শাখার শিক্ষক ও কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

কলেজের বিএম শাখার প্রভাষক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন, প্রভাষক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও প্রভাষক একেএম হুমায়ুন শরীফ জানান, তারা তিন জনসহ সাত জন শিক্ষক কর্মচারী ২০০৫ সালের ১২ জানুয়ারি যোগদান করেন। যোগদানের পর শিক্ষক-কর্মচারীদের দিনরাত পরিশ্রমে এই শাখার ফলাফল সন্তোষজনক। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তারা চরম হতাশ।

অপরদিকে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহির উদ্দিন তালুকদার জানান, কৃষি ডিপ্লোমা শাখার শিক্ষক-কর্মচারী নেই। নেই পাঠদানের অনুমোদনও। বর্তমানে চার জন শিক্ষার্থী আছে। কীভাবে এই শাখা এমপিওভুক্ত হলো সেটা তার জানা নেই।

জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বিএম শাখা এমপিওভুক্ত করতে তিনি ডিও লেটার দিয়েছেন। তবে এমপিও’র তালিকায় নাম এসেছে কৃষি ডিপ্লোমা শাখার। এ অবস্থায় বিএম শাখা এমপিও’র জন্য ২৪ অক্টোবর পুনরায় ডিও লেটার দিয়েছেন তিনি।

কর্তৃপক্ষ ভুল শুধরে বিএম শাখা এমপিওভুক্ত করবে এমনটাই প্রত্যাশা দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রি কলেজ সংশ্লিষ্টদের।

/টিটি/

লাইভ

টপ