দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের পরিচয় মিলেছে

Send
উজ্জ্বল চক্রবর্তী ও মাসুদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (কসবা)
প্রকাশিত : ১২:৪৫, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৪, নভেম্বর ১২, ২০১৯

বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্প থাকা লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার পরিচয় জানা গেছে।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছে বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ে খোলা অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকা ১০টি লাশের মধ্যে স্বজনদের কাছে চারটি লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের সময় প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দিচ্ছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামসুজ্জামান।

বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে মানুষের ভিড় নিহতরা হলেন−চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের পশ্চিম রাজারগাঁওয়ের মুজিবুল রহমান (৫৫), হবিগঞ্জের ভোল্লার ইয়াছিন আরাফাত (১২), চুনারুরঘাটের তিরেরগাঁওয়ের সুজন আহমেদ (২৪), মৌলভীবাজারের জাহেদা খাতুন (৩০), চাঁদপুরের কুলসুম বেগম (৩০), হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের আল-আমিন (৩০), হবিগঞ্জের আনোয়ারপুরের আলী মোহাম্মদ ইউসুফ (৩২), হবিগঞ্জের বানিচংয়ের আদিবা (২), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সোহামনি (৩), চাঁদপুরের উত্তর বালিয়ার ফারজানা (১৫), চাঁদপুরের হাইমচরের কাকলী (২০), হবিগঞ্জের রিপন মিয়া (২৫), চাঁদপুরের হাইমচরের মরিয়ম (৪), নোয়াখালীর মাইজদির রবি হরিজন (২৩), চাঁদপুর সদরের ফারজানা (১৫), হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের পিয়ারা বেগম (৩২)।

জেলা সিভিল সার্জন শাহ আলম জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৩৯ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর আগে আবার তিন জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ও সদর হাসপাতালে ১২ জন, আখাউড়ায় ২ জন এবং কসবা উপজেলা হাসপাতালে ২ জন ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে,  তূর্ণা নিশীথা ট্রেনকে মন্দবাগ রেলস্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে এখন পর্যন্ত পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেললাইন থেকে বগি সরানোর কাজ করছে দু’টি রিলিফ ট্রেন। এছাড়া পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ করছে। দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:

ছবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেন দুর্ঘটনা

নিহতদের পরিবার এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাবে: রেলমন্ত্রী

ট্রেন দুর্ঘটনা: ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন

 

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ