আর মায়ের আদর পাবে না মাহিমা

Send
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৪৫, নভেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৮, নভেম্বর ১২, ২০১৯

মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কাঁদছে শিশু মাহিমা (ছবি– প্রতিনিধি)মাথায় ব্যান্ডেজ। চোখভর্তি জল। কান্না থামাতে মেয়ের দিকে চিপস বাড়িয়ে দিলেন বাবা। ফুফু এগিয়ে দিলেন চকোলেট। তবু কান্না থামছে না আড়াই বছরের শিশু মাহিমার। তার অবুঝ বায়না—‘মায়ের কাছে যাবো’। শিশুটি এখনও বুঝতেই পারেনি তার মা কাকলী আর কোনোদিনও ফিরবেন না।

সোমবার (১১ নভেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হন। এরমধ্যে একজন কাকলী বেগম। এ সময় মাথায় আঘাত পায় শিশু মাহিমাও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার ছোট মাথায় দুই-দুইটা সেলাইও পড়ে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, শুরুতে মাহিমার স্বজনদের পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই সময় হাসপাতালে অচেনা মানুষজন দেখে হাউমাউ করে কাঁদছিল শিশুটি। পরে হাসপাতালে ছুটে আসেন মাহিমার বাবা মাঈন উদ্দিন ও ফুফু আয়েশা। বাবা ও ফুফুকে দেখার পর থেকে মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কেঁদেই চলেছে মাহিমা।

মাঈন উদ্দিন জানান, তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলায়। মেয়ে মাহিমাকে নিয়ে সিলেটে হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে গিয়েছিলেন কাকলী। সেখান থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় কাকলী মারা যান।

পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মাঈন উদ্দিনের বোন আয়েশা। তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের পরিবার তছনছ হয়ে গেলো। এই মাসুম বাচ্চার এখন কী হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, মাহিমার কপালে সেলাই লেগেছে। তার কপালের বাম পাশ থেকে মাথার পেছন পর্যন্ত অংশ ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৩টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দু’টির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উদয়ন ট্রেনের কয়েকটি বগি আরেকটি ট্রেনের ওপর উঠে যায়। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনকে মন্দবাগ রেলস্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়নের তিনটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত ও ৭৭ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে তিন জন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ, ১০ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এবং বাকি ৬৪ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল ও সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

/এমএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ