মৎস্য চাষিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:০৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৫, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

গ্রেফতার দুই আসামি

নারায়ণগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে মৎস্য ও সবজি চাষী মজনু চৌধুরীসহ দুইজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের চারিতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সড়েজমিন গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান।

পরে দোষী দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করাসহ মজনু চৌধুরীর তিনটি পুকুর দখলমুক্ত করে তাকে বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলো, নুরুল ইসলাম ও মনির হোসেন। গ্রেফতারকৃত দুই জনই চারিতালুক এলাকার মৃত লস্কর আলী প্রধানের ছেলে।

অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এমদাদ হোসেন, ভোলাব তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম, ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুসহ আরও অনেকে।

রূপগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, এ ঘটনায় দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। নির্যাতনের শিকার মৎস ও সবজি চাষি মজনু চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

জানা যায়, চারিতালুক এলাকায় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মজনু চৌধুরী। বাড়ির মালিক মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা মারা যাওয়ার পর থেকেই ওই এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে মাহাবুর, মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে আকবর মিয়া, আইয়ুব মিয়া, ইয়ানুছ মিয়ার ছেলে মাজাহারুল ও নাজমুলসহ তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়িঘর জবরদখলের চেষ্টা করাসহ মজনু চৌধুরীকে নানাভাবে হয়রানি ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।

মজনু চৌধুরী জানান, মজনু মিয়া বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ ও ৩টি পুকুর বর্গা নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছেন। পুকুরের চারপাশে লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। ৩ মাস আগে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা এক বিঘার একটি পুকুর জবরদখল করে নেয়। বাকি দুইটি পুকুরের মাছও জোরপূর্বক বিক্রি করে দেয়। পুকুর পাড়ে চাষ করা লাউসহ সবজি গাছ কেটে ফেলে। পুকুরে গেলেই মজনু চৌধুরীকে হত্যা ও হামলার হুমকি দিতে থাকে অভিযুক্তরা। গত এক মাস আগে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা ফজরের নামাজরত অবস্থায় মসজিদ থেকে ডেকে নিয়ে মোশারফ হোসেন নামে এক যুবকের সঙ্গে মজনু চৌধুরীকে চুরির অপবাধ দিয়ে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায়। দীর্ঘ এক মাস ঢাকার সোহরওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরে তিনি প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেন। এছাড়া এ সংক্রান্ত রিপোর্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনও ব্যবস্থা নেয়।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ