পুলিশের ভয়ে পালিয়ে যান মাইকে ফুঁ দেওয়া সেই কবিরাজ

Send
আতাউর রহমান জুয়েল, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত : ১৯:৫৫, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

কাঠুরিয়া কবিরাজ সবুজ মিয়া

ময়মনসিংহের ভালুকার রাজৈ ইউনিয়নের পাইলাবর গ্রামে এখন থেকে প্রায় আট মাস আগে ঝাড়ফুঁক দেওয়া শুরু করেন স্থানীয় কাঠুরিয়া সবুজ মিয়া। ধীরে ধীরে কবিরাজ হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান তিনি। এলাকায় মোটামুটি প্রসারও জমিয়ে ফেলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে সবুজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে হাজির হন ভালুকা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ কামাল। তিনি সবুজকে তার ঝাড়ফুঁকের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এতে কাজ হয়নি। পরে আরেক দফায় পুলিশ নিয়ে সবুজ মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হন ইউএনও মাসুদ কামাল। এতে ভয় পেয়ে নিজ এলাকায় ঝাড়ফুঁক দেওয়া বন্ধ করেন কবিরাজ সবুজ। প্রায় দুই মাস আগে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি ওই গ্রামে গেলে সবুজের ব্যাপারে ওইসব তথ্য জানান স্থানীয়রা।

সবুজ মিয়া রাজৈ ইউনিয়নের পাইলাবর গ্রামের আবু সাইদের ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। সবুজের বাবা আবু সাইদ বলেন, ‘দিনমজুর হিসেবে চুক্তিতে অন্যের গাছের কাঠ কেটে সংসারে টাকাপয়সা দিতো সবুজ। তার বিয়ের পর থেকে কাঠ কাটার আয় দিয়েই সংসার চলছিল। আট মাস আগে সে জানায়, স্বপ্নে কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ পেয়েছে। এরপর কাঠ কাটার কাজের ফাঁকে স্থানীয়দের কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া শুরু করে সে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জেলা থেকে, বিশেষ করে, কিশোরগঞ্জ থেকে গাড়ি নিয়ে মানুষজন বাড়িতে এসে ভিড় করতে থাকে।’

আবু সাইদ দাবি করেন, ‘তেল ও পানিপড়া এবং ঝাড়ফুঁক দিলেও রোগীদের কাছ থেকে কোনও টাকা নিতো না সবুজ। কিন্তু ইউএনও বেশ কয়েকবার বাড়িতে এসে সবুজকে কবিরাজি চিকিৎসা দেওয়া বন্ধ করার জন্য বলেন। প্রশাসনের চাপে বাড়িঘর ছেড়ে এখন কিশোরগঞ্জে কবিরাজি চিকিৎসা করছে সবুজ। মাঝে মধ্যে স্ত্রী ও পরিবারের অন্যদের দেখতে আসে সে।’

কাঠুরিয়া কবিরাজ ও ফুঁ নিতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মানুষের ভিড়

প্রায় একই কথা জানান রাজৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাদশা। তিনি বলেন, ‘গরিব ঘরে জন্ম নেওয়া সবুজ কিশোর বয়স থেকেই চুক্তিতে কাঠ কাটার কাজ করতো। তবে গত আট মাস আগে স্বপ্নে পাওয়ার দোহাই দিয়ে এলাকায় তেল ও পানিপড়া এবং ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা শুরু করে সবুজ। বাড়িতে মানুষের ভিড় বেড়ে গেলে এই খবর স্থানীয় প্রশাসনের কাছে যায়। স্থানীয়রাই প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর বেশ কয়েকবার ইউএনও গ্রামে আসেন এবং সবুজকে তার কবিরাজি বন্ধের নির্দেশ দেন। এতেও কোনও কাজ না হওয়ায় দুই মাস আগে পুলিশ নিয়ে আসেন ইউএনও। এরপর সবুজ এলাকা ছেড়ে চলে যায়।’

এ ব্যাপারে ইউএনও মাসুদ কামাল বলেন, ‘বেশ কয়েকবার আমি নিজে গিয়ে নির্দেশ দেওয়ার পরও সবুজ মিয়া তার ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা বন্ধ করেনি। পরে পুলিশ নিয়ে গেলে কাজ হয়। সে এলাকায় ঝাড়ফুঁক দেওয়া বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সুখিয়া ইউনিয়নের চরপলাশ গ্রামের এক মাঠে সবুজের কাছ থেকে ‘ফুঁ’ নিতে হাজারো মানুষ বোতল হাতে জড়ো হন। সবুজ মাইকে ফুঁ দেন। সে সময় ‘কবিরাজ’ সুবজের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনু ও সুখিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ টিটুও। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মফিজ উদ্দিন জানান, গত ৯ নভেম্বর মাইকে ফুঁ দেওয়ার ঘটনার পর থেকে সবুজকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। সে কোথায় আছে কেউ বলতে পারছেন না। শনিবারের ওই ঘটনার আগেও পাকুন্দিয়ায় তার থাকার বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। 

আরও পড়ুন– উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কবিরাজের ফুঁ!

 

/এমএ/এফএস/

লাইভ

টপ