ভোলায় আ.লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা নিয়ে বিতর্ক

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০৫, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৫, নভেম্বর ১৪, ২০১৯




জেলার সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে একই মঞ্চে বিজেপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী শামছুদ্দিন আহমেদ (লাল বৃত্ত চিহ্নিত)আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানে দলে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে অনুপ্রবেশকারীদের নাম এ তালিকায় উঠে আসছে। তবে ভোলায় অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বিতর্কের। বিভিন্ন সময় বিএনপি, জামায়াত ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (নাজিউর মঞ্জু) অসংখ্য নেতাকর্মী দলটিতে যোগ দিলেও তালিকায় মাত্র ১৩৬ জনের নাম তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তারা এ তালিকা তৈরির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সাপেক্ষে নতুন করে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরির দাবি জানান তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল, মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছিল,বঙ্গবন্ধুর ছবির ওপর দাঁড়িয়ে জাতির জনককে অবমাননা করেছিল সেই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, ভোলার সাত উপজেলার ৯টি থানায় অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা মাত্র ১৩৬ জন। এরমধ্যে ভোলা সদর উপজেলা ও দৌলতখান থানায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকায় নেই। শুধু বোরহানউদ্দিনের ১৪, তজুমদ্দিনের ৮, লালমোহনের ১৩, চরফ্যাশনের ১০, শশীভূষনের ২৩, দক্ষিণ আইচার ২৮, মনপুরার ৪০ জন অনুপ্রবেশকারীর নাম তালিকায় উঠে এসেছে।

নেতাকর্মীরা জানান, জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতার হাত ধরে অন্য দলের কর্মীরা আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আগামী দিনে সম্মেলনের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন পদ-পদবি বাগাতে চেষ্টা চালাচ্ছে। এরজন্য অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় অনেকের নাম আসেনি।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, এসব অনুপ্রবেশকারীদের কারণে ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনঠাসা হয়ে আছেন। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে তারাই (অনুপ্রবেশকারী) দলের জন্য বিষফোড়া হয়ে দাঁড়াবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির ওই এলাকার সিনিয়র কয়েকজন নেতা তালিকা তৈরির বিষয়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করেছেন। নেতারা বলেন, আমরা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকার দায় নেবো না। অনুপ্রবেশকারীদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে তার দায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থার।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলুও অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, ভোলায় বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন দল থেকে অনেকেই আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তাদের যোগদানের সময় ৮-১০ বছর হয়ে গেছে। তবে যারা এসেছেন তারা কেউ জামায়াতের কর্মী নয়। যারা যোগ দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর জাতীয় পার্টির ও বিএনপির কর্মী। নাজিউর মঞ্জু এক সময় আওয়ামী ঘরানার ছিলেন। তার মৃত্যুর পরে ওই দলের নেতাকর্মীরা (পূর্বে যারা আওয়ামী লীগ করেছেন) পুনরায় আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তারা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই কর্মীদের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কোনও কাজের অভিযোগ নেই।

তবে তিনি দাবি করেছেন, প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্যই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।

/টিটি/

লাইভ

টপ