আ.লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:২৩, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫১, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

আবদুর রহিমবগুড়ায় আবদুর রহিম (৪৫) নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে শহরতলির অদ্দিরগোলা বাজারে তার ওপর হামলা চালানো হয়। নিহতের ভাই আবদুল বাছেদ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম রাজ জানান, নিহত আবদুর রহিম আওয়ামী লীগের কোনও পর্যায়ের নেতাকর্মী ছিলেন না। তিনি সাবগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাইল হককে কুপিয়ে আহত করার মামলায় প্রধান আসামি ছিলেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানিয়েছেন, কোনও বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আবদুর রহিম বগুড়া সদরের সাবগ্রাম ইউনিয়নের চকঝপু গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে। তিনি মাছের পোনার ব্যবসার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সাবগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাইল হককে কুপিয়ে আহত করা হয়। ওই মামলায় আবদুর রহিমকে প্রধান আসামি করার পর তিনি জামিন পান।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবদুর রহিম মোটরসাইকেলে গাবতলীর পেরিরহাট থেকে অদ্দিরগোলা বাজার হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজারের পূর্বদিকে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। শত শত মানুষের সামনে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, বুক ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ভয়ে কেউ আবদুর রহিমকে রক্ষায় এগিয়ে আসেননি। ঘটনার পর অদ্দিরগোলা বাজারের তিন শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তায় পড়ে থাকা আবদুর রহিম কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান। পরে সদর থানা পুলিশ এসে লাশ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের বড় ভাই আবদুল বাছেদ দাবি করেন, তার ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী ছিলেন। দুই বছর আগে সাবগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইসরাইল হককে কোপানোর ঘটনায় তার ভাইকে অন্যায়ভাবে প্রধান আসামি করা হয়েছিল। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এরপর থেকে ইসরাইল ও তার ভাইয়েরা হুমকি দিয়ে আসছিল। বৃহস্পতিবার সকালে রহিম গাবতলীর পেরিরহাটে মাছের পাওনা টাকা আনতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে অদ্দিরগোলা বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাইলের নেতৃত্বে তার দুই ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী নজির ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী মনির, চাচাতো ভাই আওয়ামী লীগ কর্মী সফিউল্লাহ, বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী সাবগ্রাম ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সাইফুল ইসলামসহ ১০-১১ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী আবদুর রহিমের পথরোধ করে। এরপর তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
আবদুল বাছেদ আরও জানান, তিনি তার ভাইকে সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু, কথা না শোনায় আজ হত্যার শিকার হলেন। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সদর থানায় তিনি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

/এনআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ