ব্লাস্ট রোগে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৫৮, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২০, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

ব্লাস্টের আক্রমণে শুকিয়ে যাচ্ছে ধানের শীষ

নওগাঁর রাণীনগরে আমন ধানে ব্যাপকহারে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে করে শত শত হেক্টর জমিতে ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ছিটিয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।  ফলে চলতি মৌসুমে ফলন বিপর্যয়েরও আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে। উপজেলার নিম্ন এলাকায় বন্যার কারণে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা থাকায় প্রাথমিকভাবে কৃষি বিভাগ সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। পানি নেমে যাওয়ায় অতিরিক্ত আরও পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে  ধান রোপণ করা হয়। এসব জমিতে আতব জাতের ধানই বেশি রোপণ করা হয়েছে।

আবাদের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তেমন রোগবালাই ছিল না। কিন্তু এখন ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে  গোড়া থেকে কালো হয়ে ধানের শীষ মরে যাচ্ছে।  উপজেলার শত শত হেক্টর জমির ধানে একই অবস্থা। শীষ মরা রোধ করতে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ছিটিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না।  উপজেলার মালশন, বলিদাগাছী, গিরিগ্রাম, আকনা, বাঁশবাড়িয়া, ঝিনা, সিম্বা, রনসিংগার, খট্রেশ্বর, করজগ্রাম, কালিগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত হেক্টর জমির ধানের শীষ মরে যাচ্ছে। ফলে চলতি মৌসুমে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন এখানকার কৃষকরা।

রাণীনগর কালিকগ্রামের কৃষক সাকাত হোসেন বলেন, ‘আমার কাটারি ভোগের ধানে ব্লাস্ট রোগ আক্রমণ করেছে। অনেক ওষুধ ছিটিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না।’

করজ গ্রামের গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘তিন বিঘা জমির ধানই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যাচ্ছে। বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ ছিটিয়েছি। শীষ মরা কমছে না।’

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আবহাওয়াজনিত কারণে কিছু কিছু জমিতে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ক্ষতির কোনও সম্ভবনা নেই। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সব সময় কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ