বুলবুলে খেয়ে গেছে ৩০ কোটি টাকার ফসল

Send
এস এম সামছুর রহমান, বাগেরহাট
প্রকাশিত : ১৭:২২, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৬, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

উপকূলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর আঘাতে বাগেরহাটে রোপা আমন ধান ও রবি মৌসুমের কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৯ উপজেলায় দেড় লাখ কৃষকের ২৯ কোটি ৩৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৭৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩১ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমি। এতে কৃষকদের ১৫ কোটি ২৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির সবজি। এতে  ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

এছাড়াও জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমির খেসারির মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে ৫৭০ হেক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে ২০ লাখ টাকা। ২০ হেক্টর জমির সরিষার সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪ হাজার টাকা। মরিচের আবাদ হয়েছে ৭৬ হেক্টর জমিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬ হেক্টর জমি। এতে ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকার। ১ হাজার ১০৭ হেক্টর জমির পানের বরজের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৪০ হেক্টর জমির পান। ফলে ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৯২ হাজার টাকার। ২ হাজার ৪০৪ হেক্টর জমির কলার আবাদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭০ হেক্টর জমির কলাগাছ। এতে কৃষকের ২২ লাখ ৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের উত্তর খানপুর গ্রামের কৃষক হাওলাদার আব্দুর রহিম (রহিম মেম্বর) বলেন, ‘আমি ঘেরের পাড়ে অনেক জমিতে শীতের সবজির চাষ করেছিলাম। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষেতের সম্পূর্ণ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।’

চিতলমারী উপজেলার চরশৈলদাহ গ্রামের কৃষক মহিত উদ্দীন জানান, তিনি অনেক জমিতে আগাম টমেটোর চাষ করেছিলেন। কিন্তু এখন আর কোনও ফসল ক্ষেতে নেই। 

ফকিরহাট উপজেলার নলধা গ্রামের কৃষক শেখ আসাদ জানান, ঘূর্ণিঝড়ে তার পানের বরজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রঘুনাথ কর বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কৃষকদের নতুনভাবে ফসল চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড়ে কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সহায়তা করা হবে।’

 

 

/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ