চট্টগ্রামে বিস্ফোরণ গ্যাস পাইপে নাকি সেপটিক ট্যাংকে!

Send
হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৮:২৯, নভেম্বর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৫, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত ৭

চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা এলাকায় রবিবার (১৭ নভেম্বর) সকালে গ্যাস পাইপ বিস্ফোরণে দেয়াল ধসে ৭ জন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে এই দুর্ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি কোনও পক্ষ। উদ্ধার কাজে নেমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, গ্যাস পাইপে ছিদ্র (লিকেজ) থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড কর্মকর্তাদের দাবি, গ্যাস লাইন নয়, সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের আগ্রাবাদ স্টেশনের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা তিনটি বিষয় অবজারভেশনে নিয়েছি। যেহেতু সকালে  ঘুম থেকে উঠে অনেকে নাস্তা তৈরি জন্য  বাসায় গ্যাসের চুলা জ্বালান, এ সময় যদি গ্যাসের লাইনে লিকেজ থাকে অথবা চুলার লাইন লুজ কানেকশন থাকায় বাসার ভেতর গ্যাস জমে থাকে অথবা গ্যাসের বেশি চাপ থাকে তাহলে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা থাকে। এসব কারণ মাথায় নিয়ে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আসলে কোন কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তদন্তের পর জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, গ্যাস লাইনের লিকেজ অথবা লুজ কানেকশন থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ

তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা দেখেছি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওয়ালটা স্প্লিন্টারের মতো কাজ করেছে। যদি কোথাও গ্যাস জমে থাকে সেখানে এ ধরনের একটা বয়েল, এভাবে উত্তপ্ত হয়ে যায় এবং সেখানে অক্সিজেন কাটআপ হয়ে যায়। তখন সেখানে হাইড্রোজেন, কার্বন-ডাই অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্যাস মিলিয়ে শক্তি সঞ্চার হলে এ ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

জসিম উদ্দিন আরও বলেন, চারটা কারণ আমরা চিহ্নিত করেছি। আমরা রাইজার চেক করে দেখছি, রাইজার থেকে যে লাইনটা চুলা পর্যন্ত গেছে সেটি আমরা পরীক্ষা করে দেখবো কোথাও কোনও লিকেজ আছে কিনা। কোথাও কোনও লুজ কানেকশন ছিল কিনা। অথবা অন্য কোনও কারণ, যেমন গ্যাস লাইনটা মানসম্মত ছিল কিনা।

তবে ফায়ার সার্ভিস এবং বিস্ফোরক অধিদফতরের বক্তব্য নাকচ করে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা বলেছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, সেপটিক ট্যাংকিতে গ্যাস জমার কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কেজিডিসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (বিপণন উত্তর ডিভিশন) আবু নসর মোহাম্মদ সালেহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ দুর্ঘটনার জন্য রাইজার বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে, এটি সঠিক নয়। গ্যাস লাইনের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেনি। আমরা ধারণা করছি সেপটিক ট্যাংক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আমরা সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছি। যে বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে আমরা সেখানে গিয়ে দেখেছি, ওই বাসায় কোনও ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটলে ওই বাসায় অবশ্যই আগুন লাগার ঘটনা ঘটতো। আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো।

আবু নসর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ‘আমরা ওই বাসায় গিয়ে দেখেছি কাপড়চোপড়গুলো স্বাভাবিক রয়েছে। ফ্রিজটাও ঠিক আছে। বাসায় প্লাস্টিকের যেসব জিনিসপত্র ছিল সেগুলোও ঠিক আছে। এমনকি রান্নাঘরের চুলাটাও যেমন ছিল তেমন আছে।’

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ

তাহলে বিস্ফোরণ কেন ঘটেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে গিয়ে দেখেছি ওই বাসার রান্নাঘরের নিচ দিয়ে একটি ড্রেন ছিল। রান্নাঘরের ফ্লোরের ওপর একটা স্ল্যাব ছিল। যেটি উড়ে চলে গেছে। তাই আমাদের ধারণা সেপটিক ট্যাংক থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারবে বিস্ফোরক অধিদফতর।

বিস্ফোরক অধিদফতরের পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। রাইজার থেকে চুলা পর্যন্ত যে লাইনটি গেছে ওই লাইনে কোনও লিকেজ থাকতে পারে। ওই লিকেজ দিয়ে সারা রাত গ্যাস বের হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। পরে সকালে আগুন ধরাতে গেলে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, সব গ্যাস বিস্ফোরণে আগুন ধরে যাবে এটি ঠিক না। এটি আমাদের প্রাথমিক ধারণা। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ