১০ ডিসেম্বর থেকে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:২৮, নভেম্বর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৮, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

পাটকল ১

মজুরি কমিশনসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩ ডিসেম্বর ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে পাটকল শ্রমিকরা। ১০ ডিসেম্বর থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। আগামী ২৩ নভেম্বর সকালে সব পাটকলে একযোগে গেটসভা করে স্ব স্ব মিল থেকে সাতদিনের কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে। রবিবার ঢাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে দিনভর অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঢাকা বিজেএমসির সিবিএ কার্যালয়ে রবিবার সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয়ে তা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কর্মসূচির রূপরেখা হচ্ছে আগামী ২৩ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় খুলনা যশোরসহ দেশের সব পাটকলে গেটসভা করে একযোগে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ২৫ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ভুখা মিছিলের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হবে। ২৭ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রতিটি মিলগেটে প্রতীকী অনশন পালিত হবে। ২ ডিসেম্বর বিক্ষোভ মিছিল, ৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টা থেকে ৪ ডিসেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করা হবে। ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় স্ব-স্ব মিলগেটে সভা করা হবে, ৮ ডিসেম্বর সব মিলে একযোগে গেট সভা ও আমরণ অনশনের শপথ গ্রহণ করা হবে, ১০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্ব-স্ব মিলগেটে আমরণ অনশন শুরু হবে। 

খালিশপুর জুট মিলের সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, পাটকল শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরি না পেয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াসহ নিত্যদিনের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। শ্রমিকদের মজুরি কমিশন ঘোষণা এবং বকেয়া মজুরিসহ ১১ দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালন করা হয়। খালিশপুরের জনসভা থেকে দাবি বাস্তবায়নে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ফলে কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘২৬ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত খালিশপুর শিল্পাঞ্চলসহ ৮টি স্থানে শ্রমিক সমাবেশ করা হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক সরদার আ. হামিদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনেও মজুরি কমিশনের দাবি পূরণ না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। এরপর সপ্তাহের মজুরি দিতেও বিলম্ব করছে। প্রত্যেকটি মিলে শ্রমিকদের ৯/১০ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া আছে। ফলে শ্রমিকরা চরম ক্ষিপ্ত।’

প্লাটিনাম জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, ‘খুলনা ও যশোরের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে পাট ক্রয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ নেই, শ্রমিকদের ৯/১০ সপ্তাহের মজুরি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় ৩ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, পিএফ বাবদ বাকি ৮৭ কোটি টাকা, গ্র্যাচুইটি বাবদ বাকি ২৩০ কোটি টাকা। এছাড়া পাটের দেনা ১৮৬ কোটি টাকা। অন্য খাতে প্রায় ৭২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এত টাকা বকেয়া থাকলে শ্রমিকরা চলবে কী করে।’

আলিম জুট মিলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটু বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ঠিকমতো খেতে পাচ্ছে, অথচ পাটকল শ্রমিকরা না খেয়ে পরিবার নিয়ে অসহায়ভাবে জীবন কাটাচ্ছে। শ্রমিক সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।’

প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ নেতা বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের পে-কমিশন বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি কমিশন ৬ বছরেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ নিয়ে আন্দোলন করতে গেলে শ্রমিক নেতাদের নামে মামলা দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে ঠেলে দেওয়া হয়।’

ঢাকার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আব্দুল হামিদ সরদার। পরিষদের সদস্য সচিব আরিফুর রহমানের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ক্রিসেন্টের সাবেক সভাপতি মো. মুরাদ হোসেন, ইস্টার্ন জুট মিলের আলাউদ্দিন, আলীম জুট মিলের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম লিটু, স্টার জুট মিলের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আ. মান্নান, খালিশপুর জুট মিলের সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম, দৌলতপুর জুট মিলের সদস্য সচিব আক্তার হোসেনসহ সারাদেশের পাটকলের সিবিএ-ননসিবিএ নেতারা।

উল্লেখ্য, গত ২ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পিপলস গোল চত্বরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সারাদেশের পাটকলের সিবিএ-নন সিবিএ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাবলিক প্রাইভেট (পিপিপি)’র সিদ্ধান্ত বাতিল, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। পাটকল শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে গুরুত্ব না দেওয়ায় শ্রমিক নেতারা ১৭ নভেম্বর ঢাকায় বৈঠক করে এ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করেন।

/জেবি/এমএমজে/

লাইভ

টপ