শিক্ষার্থী নেই, তবুও পিইসি পরীক্ষায় তিন মাদ্রাসা

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:১৯, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৮, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

বগুড়া

শিক্ষার্থী না থাকলেও শুধু জাতীয়করণের লোভে ভুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন মাদ্রাসার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) একারণে বগুড়ার ধুনটের তিন মাদ্রাসার ২৪ ভুয়া পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের। 

ধুনট উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

জানা যায়, প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) ধুনট উপজেলার ১৯টি কেন্দ্রে ২০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ হাজার ১০৩ জন এবং ৫৯টি স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৭৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। রবিবার পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিন থেকেই ছাতিয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও ভাণ্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনটি এবতেদায়ী মাদ্রাসার ২৪ জন ভুয়া পরীক্ষার্থীর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন ধুনট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান। এ বিষয়ে সত্যতা মিললে মঙ্গলবার ওই দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ১৫ জন, রামপুরা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৩ জন ও রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার ৬ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এসব পরীক্ষার্থী সবাই ৭ম ও ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে ভুয়া পরীক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের অভিযোগে গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসেন, রামপুরা স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন ও রঘুনাথপুর নয়াপাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গোবিন্দপুর স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মারুফ হোসেন বলেন, ‘এসব শিক্ষার্থী তথ্য গোপন করে পিইসি পরীক্ষার ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ বিষয়টি জানা ছিল না। পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে বহিষ্কারের পর বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, তিনটি মাদ্রাসায় কোনও শিক্ষার্থী না থাকলেও তারা বহিরাগত ৭ম ও ৮ম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এ কারণে ওই তিন প্রতিষ্ঠানের ২৪ জন পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘ভুয়া শিক্ষার্থী দিয়ে প্রাথমিক ও এবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংগ্রহণ করায় তিনটি মাদ্রাসার প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ