এবারও মেলায় এসে কর দিলেন সেই তাপস

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:০৮, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৮, নভেম্বর ২১, ২০১৯

BT New Tempতাপস কুমার ঘোষ। বাগেরহাটের গৌরম্ভা গ্রামের খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি ক্র্যাচে ভর দিয়ে খুলনার আয়কর মেলা থেকে বের হলেন। গত বছর ১৯ নভেম্বর মোংলার আয়কর মেলায় কর দিয়ে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন তিনি। পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার ভাগ্নে অপু ঘোষ নিহত এবং তিনি মারাত্মক আহত হন। দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিলেও এখন আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না তিনি। এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার এক বছর পরে আবারও খুলনায় এসে আয়কর দিয়ে একজন দায়িত্ববান নাগরিকের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি।

তাপস জানান, এক বছর আগে ভাগ্নেকে হারানোর বেদনা সব সময়ই তাকে কাঁদায়। তার ওপর নিজে পঙ্গুত্ববরণ করার জ্বালাটাও রয়েছে। তবুও তিনি নিজেই কর রিটার্ন দাখিলের জন্য কষ্ট করে মেলায় এসেছেন। কারণ সবার আয়কর দিয়েই তো দেশের উন্নয়ন হবে। এ কারণেই কর প্রদান ও সরকারকে উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা প্রদানের তাগিদ থেকে কর দিয়েছেন।

আয়কর দেওয়ার জন্য তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলার ভারকোট গ্রাম থেকে ইজিবাইক রিজার্ভ করে স্ত্রী সোমা ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে খুলনায় আসেন। এখানে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, করমেলা থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েই ২০১৭ সালে তিনি মোংলার আয়কর মেলা থেকে টিআইএন খোলা এবং কর প্রদান শুরু করেন। এবার দিয়ে টানা তিনবার কর দিলেন।

কর দিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, সেদিন তার ভাগ্নে মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল। মোংলা থেকে কিছুদূর আসার পর গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি একটি ট্রাককে ওভারটেক করে তারা সামনে চলে আসেন। ঠিক এ সময় একটি খালি ট্রাকের বাম্পারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে। এরপর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই ভাগ্নে কলেজ ছাত্র অপু ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কিছুদিন চিকিৎসা শেষে তিনি চলে যান ব্যাঙ্গালোরে। ব্যাঙ্গালোরের চিকিৎসায় সুস্থ হন। তবে তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা করতে পারেননি। এখন কোথাও যেতে হলে ক্র্যাচে ভর দিয়ে যেতে হয়।

তাপসের ১০ বছরের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। সে এখন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তিনি ভারকোট থেকেই রামপালের গৌরম্ভায় যাতায়াত করে স্কুলের শিক্ষকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

/এমএএ/

লাইভ

টপ