রাজশাহীর বাজারে অপরিপক্ব কন্দ পেঁয়াজ

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৫৩, নভেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৫, নভেম্বর ২১, ২০১৯

BT New Tempরাজশাহীর বাজারে পাওয়া যাচ্ছে কন্দ জাতের স্থানীয় দেশি পেঁয়াজ। বাজারে এখন চড়া দাম থাকায় বেশি লাভের আশায় কৃষকরা অপরিপক্ব অবস্থায় এ পেঁয়াজ বাজারজাত করছেন। এই পেঁয়াজের ঝাঁজও বেশি না। বাজারে এর সরবরাহও চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ডিসেম্বরের শেষ দিকে পুরোদমে কন্দ জাতের এই পেঁয়াজ বাজারে পাওয়া যাবে। রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান এ তথ্য জানান।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, এবার জেলায় পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৬০০ হেক্টর। এর মধ্যে রয়েছে চারা পেঁয়াজ ৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর এবং কন্দ ৫ হাজার ৭৩০ হেক্টর। চারা পেঁয়াজ এখনও লাগানো হয়নি। তবে কন্দ পেঁয়াজ ২ হাজার ১৮১ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।

ইশরাত জাহান বলেন, ‘অক্টোবরের ১৬ তারিখ থেকে রবি মৌসুম শুরু হয়েছে। আর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কন্দ জাতের পেঁয়াজ লাগানো শুরু হয়েছে। এখনও চলছে। বাজারে যে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো আগাম চাষ করা হয়েছে। মাঝে রাজশাহীতে দুবার বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এবার অনেক দেরি করে পেঁয়াজ আবাদ করেছেন কৃষক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবার পাবনা, নাটোর এলাকায় বৃষ্টি ও বন্যা তেমন হয়নি। সেসব এলাকার পেঁয়াজও এখন রাজশাহীতে পাওয়া যেতে পারে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি থেকে চারা পেঁয়াজ লাগানো হবে। মূলত জেলার বাগমারা উপজেলায় এই চারা পেঁয়াজ বেশি আবাদ করা হয়।’

এদিকে, আগাম কন্দ জাতের পেঁয়াজ রাজশাহীর বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। আর দেশি ও এলসি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে ওঠা কন্দ পেঁয়াজ এখনও পরিপক্ব হয়নি। তবে এখন দাম ভালো থাকার জন্য ও ক্রেতাদের চাহিদার বেশি থাকায় কৃষকরা এই পেঁয়াজ কিনছেন। এই নতুন পেঁয়াজের ঝাঁজ ও স্বাদ অনেক কম হবে।

রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী বলেন, ‘দেশি এলসি পেঁয়াজ বুধবার (২০ নভেম্বর) বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর নতুন কিছু কন্দ পেঁয়াজ প্রকারভেদে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই পেঁয়াজ দুই দিন হলো বাজারে এসেছে। খুবই অল্প পরিমাণে আসছে যা দ্রুতই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।’

পেঁয়াজ ক্রেতা নগরীর উপশহর এলাকার তানিয়া সুলতানা বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে বাজারে গিয়ে দেখছি নতুন পেঁয়াজ এসেছে। এর দাম অন্য পেঁয়াজের চেয়ে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। তাই নতুন পেঁয়াজই কিনেছি। কিন্তু এই পেঁয়াজের ঝাঁজ অনেক কম।’

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষক মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে মুড়িকাটা (কন্দ জাত) পেঁয়াজ লাগানোর পরে বৃষ্টি হলে অনেক জমির পেঁয়াজ পানিতে ডুবে যায়। জমিতে পানি জমে। তবে ভিটা জমির মুড়িকাটা পেঁয়াজ এখন রয়েছে। এই পেঁয়াজই অনেকে তুলে হাটে বিক্রি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জমিতে বৃষ্টির কারণে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এখন যা আছে তা তুলে বিক্রি করবো। কারণ এখন দাম ভালো। কিছুদিন পরে দাম কমলে খরচ উঠবে না।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ