মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরলেন সেই ১৭ জেলে

Send
আবদুর রহমান, টেকনাফ
প্রকাশিত : ২২:৪৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২০, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

মিয়ানমার থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি জেলেরাসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে আটক সেই ১৭ জেলে দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমার শূন্যরেখায় কোস্টগার্ডের কাছে তাদের হস্তান্তর করে মিয়ানমার। এরপর তাজউদ্দিন নামে কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে তারা দেশে ফিরে আসেন। এ সময় মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, মিয়ানমারের প্রতিনিধি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ফেরত আসা জেলেদের মধ্যে ১৩ জন ভোলার, দুই জন চট্টগ্রামের, একজন ঝালকাঠির ও একজন মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

জেলেরা হলেন, ভোলার কুলাকুপার এলাকার মো. আলমগীরের ছেলে মো. আল আমিন, একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম, উত্তর মাদ্রিস এলাকার নূর মোহাম্মদ পাটোয়ারীর ছেলে মো. জসীম, জয়নাল আবেদীনের ছেলে নূরুল ইসলাম, মকবুল আহাম্মদের ছেলে মো. নাছের, পশ্চিম এওয়াজপুর এলাকার মৃত খোরশেদ আলম সওদাগরের ছেলে মো. কামাল সওদাগর, নূরাবাদ এলাকার মৃত আব্দুল লতিফ ব্যাপারীর ছেলে আবুল কালাম, নীলকমল এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে বেলাল হোসেন, মৃত নজির আহাম্মদের ছেলে মো. মোতাহার, চুন্নাবাদ এলাকার মো. মিলনের ছেলে জাকির হোসেন, কন্দকারবারী এলাকার আবি আব্দুল্লাহর ছেলে আবুল কালাম, স্যার নূরুল আমিন ইউনিয়নের নজির আহাম্মদের ছেলে মো. ফারুক, এবারেক চকিদারের ছেলে মো. সেলিম।

চট্টগ্রামের লাওরবিল এলাকার মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে মো. শাহ আলম ও মৃত সোলাইমানের ছেলে মো. জসীম।

মুন্সিগঞ্জের চাষি বারীগঞ্জ এলাকার মৃত তাহের আলী দেওয়ানের ছেলে আবু সৈয়দ এবং ঝালকাঠির শওকতগঞ্জ এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. নুরুজ্জামান।

প্রেস ব্রিফ করছেন তাজউদ্দিন জাহাজের প্রধান কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিনএ বিষয়ে শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে জাহাজে প্রেস ব্রিফিং করেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের তাজউদ্দিন জাহাজের প্রধান কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা, চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা লে. শাহ জিয়া রহমান।

কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ১৭ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে। এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাথিডং উপকূলের মাইও নদীর মোহনায় মিয়ানমারের জলসীমায় দেশটির নৌবাহিনী ১৭ জেলেসহ এফবি গোলতাজ-৪ (এফ-৬০৭৯) নামে বাংলাদেশি একটি ফিশিং বোট সাগর থেকে আটক করে। পরে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের ফেরত আনা হয়েছে।’

মিয়ানমার থেকে দেশে ফেরেন বাংলাদেশি জেলেরাকোস্টগার্ড সূত্র জানায়, মাসুদ ফিশ প্রসেসিং অ্যান্ড আইসি কমপ্লেক্স লিমিটেড বাংলাদেশ-এর আশরাফ হোসেন মাসুদের মালিকানাধীন ওই ফিশিং ট্রলারটি গত ২৯ নভেম্বর মাছ ধরার উদ্দেশে চট্টগ্রাম চাক্তাই থেকে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করে। ৩০ নভেম্বর ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। চারদিন সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে বোটটি মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। পরে দেশটির নৌবাহিনী বোটসহ জেলেদের আটক করে।

টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানা বলেন, ‘সরকারের প্রচেষ্টায় মিয়ানমার থেকে ফিশিং ট্রলারসহ ১৭ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

ট্রলারের মাঝি মো. ফারুক বলেন, ‘ট্রলারটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে মিয়ানমার জলসীমানায় ঢুকে পড়ে। এ সময় সে দেশের নৌবাহিনী আমাদের আটক করে। পরে সরকারের প্রচেষ্টায় আমরা ফিরে এসেছি।’

আরও পড়ুন...
মিয়ানমার থেকে ফিরছেন বাংলাদেশি ১৭ জেলে

 

 

/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ